ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হামলা-মামলার ভয়ে প্রায় পুরুষশূন্য গ্রাম, গবাদিপশু লুটপাটের অভিযোগ বৃষ্টিতে ভেসে গেল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হজ ফরজ হওয়ার পর মাহরাম না থাকলে নারীরা কী করবেন? রেকর্ড বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু র‌্যাংকিংয়ে তিন বাংলাদেশি পেসারের বড় লাফ শনির আখড়ায় সাংবাদিক এস. এম. কামাল পারভেজ ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি পিএসজির ৪৩ গোল, বায়ার্নের ৪২—চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস নরসিংদী বৃষ্টির মধ্যে হাঁটু পানির নিচে সড়ক ঢালাই, এলাকাবাসীর ক্ষোভ কালুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ধলতা’ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন নিজের দোকান ভাঙচুর করে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর অভিযোগ, হাট ইজারাদারের সংবাদ সম্মেলন

কালুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ধলতা’ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ২০২৬ইং সকাল সাড়ে সাতটার সময় কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে বাজারের পাইকার ও আড়তদারদের ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য গ্রহণ না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি বাজারে আসা কৃষকদেরও সচেতন করা হয় যাতে তারা ন্যায্য ওজনের বাইরে অতিরিক্ত পণ্য দিতে বাধ্য না হন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে পেঁয়াজ, আলুসহ কৃষিপণ্য ক্রয়ের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য আদায় করে থাকেন। এতে ৪০ কেজি পণ্যের বিপরীতে ৪২ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত দিতে কৃষকদের বাধ্য করা হয়, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও ক্ষতিকর।

এ ধরনের কার্যক্রম “ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮” অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি রোধ এবং বাজারে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এ প্রথা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কয়েকজন কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ সমস্যার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, আমরা ৪০ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসিকিন্তু অনেক সময়  থেকে  কেজি পর্যন্ত বেশি দিতে হয়। না দিলে আড়তদাররা পণ্য নিতে চায় না। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়।

আরেক কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বীজসারশ্রমিক সবকিছুর খরচ বেড়েছে তার ওপর যদি অতিরিক্ত পণ্য দিতে হয় তাহলে লাভ তো দূরের কথাখরচই ওঠে না। প্রশাসনের এই উদ্যোগে আমরা খুশি।

কৃষকদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আবার এই অনিয়ম চালু করতে না পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “‘ধলতা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন ,প্রশাসনের এই উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বাজারে ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামলা-মামলার ভয়ে প্রায় পুরুষশূন্য গ্রাম, গবাদিপশু লুটপাটের অভিযোগ

কালুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ধলতা’ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ২০২৬ইং সকাল সাড়ে সাতটার সময় কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে বাজারের পাইকার ও আড়তদারদের ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য গ্রহণ না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি বাজারে আসা কৃষকদেরও সচেতন করা হয় যাতে তারা ন্যায্য ওজনের বাইরে অতিরিক্ত পণ্য দিতে বাধ্য না হন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে পেঁয়াজ, আলুসহ কৃষিপণ্য ক্রয়ের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য আদায় করে থাকেন। এতে ৪০ কেজি পণ্যের বিপরীতে ৪২ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত দিতে কৃষকদের বাধ্য করা হয়, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও ক্ষতিকর।

এ ধরনের কার্যক্রম “ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮” অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি রোধ এবং বাজারে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এ প্রথা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কয়েকজন কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ সমস্যার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, আমরা ৪০ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসিকিন্তু অনেক সময়  থেকে  কেজি পর্যন্ত বেশি দিতে হয়। না দিলে আড়তদাররা পণ্য নিতে চায় না। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়।

আরেক কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বীজসারশ্রমিক সবকিছুর খরচ বেড়েছে তার ওপর যদি অতিরিক্ত পণ্য দিতে হয় তাহলে লাভ তো দূরের কথাখরচই ওঠে না। প্রশাসনের এই উদ্যোগে আমরা খুশি।

কৃষকদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আবার এই অনিয়ম চালু করতে না পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “‘ধলতা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন ,প্রশাসনের এই উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বাজারে ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।