ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা ‘জামায়াত’ হঠাৎ করেই বদলে গেল জামালপুরে ধ্বংস করা হলো দুই ইটভাটার চিমনি, আটক ২ সংরক্ষিত নারী আসনের ৬৫ শতাংশই কোটিপতি : টিআইবি নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ড   ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যায় সেই জনিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

হামলা-মামলার ভয়ে প্রায় পুরুষশূন্য গ্রাম, গবাদিপশু লুটপাটের অভিযোগ

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। মোহন শেখের মৃত্যুর পরে হামলা-মামলার ভয়ে গ্রামের এক পক্ষের লোকজন এখন গ্রাম ছাড়া। পুলিশের সহযোগিতায় কিছু কিছু পরিবার তাদের গবাদিপশু গ্রাম থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাখছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার তরিকুল সাদাত এর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোহন শেখসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু জাহিদ চৌধুরীদের সমর্থক মোহন শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার জের ধরে ওইদিনই ওই গ্রামে প্রায় ৩০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় মোহন শেখের সমর্থকরা। এরপর থেকেই গ্রাম ছাড়া আবুল বাশার তরিকুল সাদাতের প্রায় ৩ শতাধিক পুরুষ সমর্থক।

মোহন শেখের হত্যার ঘটনায় তার ছেলে আবদুর রশীদ শেখ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলার ৪ নম্বর আসামি সের আলী মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। এজাহারে নাম না থাকলেও এই ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীকেও আটক করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ।

আবুল বাশার তরিকুল সাদাত বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর গত কয়েকদিনে মোহন শেখের সমর্থকরা তাদের প্রায় ৩০ সমর্থকের ৪০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করেছেন। প্রায় ৬৫টি গরু ছাগল লুট করা হয়েছিল। এরমধ্যে কিছু সংখ্যক গাবাদিপশু উদ্ধার করেছে পুলিশ। আমাদের প্রায় ৩০০ পুরুষ সমর্থক বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েছে।

জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী জানান, মোহন শেখ হত্যার পর মোহন শেখের বাড়িসহ তার ১৬ সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সাদাতের সমর্থকরা। তিনি আরও বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গরু লুটের অভিযোগও ভিত্তিহীন। হত্যার দিন থেকেই গ্রামে পুলিশ আছে। আর আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।

শৈলকুপা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম বলেন, সংঘর্ষের পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার দিনেই ওই গ্রামের উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টির মতো বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর আর কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

হামলা-মামলার ভয়ে প্রায় পুরুষশূন্য গ্রাম, গবাদিপশু লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। মোহন শেখের মৃত্যুর পরে হামলা-মামলার ভয়ে গ্রামের এক পক্ষের লোকজন এখন গ্রাম ছাড়া। পুলিশের সহযোগিতায় কিছু কিছু পরিবার তাদের গবাদিপশু গ্রাম থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাখছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার তরিকুল সাদাত এর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোহন শেখসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু জাহিদ চৌধুরীদের সমর্থক মোহন শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার জের ধরে ওইদিনই ওই গ্রামে প্রায় ৩০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় মোহন শেখের সমর্থকরা। এরপর থেকেই গ্রাম ছাড়া আবুল বাশার তরিকুল সাদাতের প্রায় ৩ শতাধিক পুরুষ সমর্থক।

মোহন শেখের হত্যার ঘটনায় তার ছেলে আবদুর রশীদ শেখ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলার ৪ নম্বর আসামি সের আলী মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। এজাহারে নাম না থাকলেও এই ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীকেও আটক করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ।

আবুল বাশার তরিকুল সাদাত বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর গত কয়েকদিনে মোহন শেখের সমর্থকরা তাদের প্রায় ৩০ সমর্থকের ৪০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করেছেন। প্রায় ৬৫টি গরু ছাগল লুট করা হয়েছিল। এরমধ্যে কিছু সংখ্যক গাবাদিপশু উদ্ধার করেছে পুলিশ। আমাদের প্রায় ৩০০ পুরুষ সমর্থক বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েছে।

জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী জানান, মোহন শেখ হত্যার পর মোহন শেখের বাড়িসহ তার ১৬ সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সাদাতের সমর্থকরা। তিনি আরও বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গরু লুটের অভিযোগও ভিত্তিহীন। হত্যার দিন থেকেই গ্রামে পুলিশ আছে। আর আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।

শৈলকুপা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম বলেন, সংঘর্ষের পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার দিনেই ওই গ্রামের উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টির মতো বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর আর কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।