লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ। নবায়নের আবেদন নামঞ্জুর করেছে মন্ত্রণালয়। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কার্যক্রম বন্ধ রাখার। তারপরও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড। দৃশ্যত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সম্মতিতেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে ব্যবসা চালানোয় রেভিনিউ শেয়ার বাবদ মেট্রোনেটের কাছ থেকে বিটিআরসির পাওনা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
২০০৯ সালের অক্টোবরে ন্যাশনওয়াইড আইএসপি হিসেবে নিবন্ধিত হয় মেট্রোনেট। ন্যাশনওয়াইড আইএসপি মানে পুরো দেশে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার অনুমতি। সর্বশেষ লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মেয়াদ পেরোনোর তিন মাস পর ওই বছরের ডিসেম্বরে নবায়নের আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
আবেদন মূল্যায়ন শেষে ১১ মাস পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে পূর্বানুমোদনের জন্য সেটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বিটিআরসি। তবে ওই আবেদন নামঞ্জুর করে মন্ত্রণালয়। গত ৬ জানুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে বিটিআরসিকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, বিটিআরসিও এ বিষয়ে মেট্রোনেটকে অবহিত করে।
বিটিআরসির অবস্থান পরিবর্তন
লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নামঞ্জুরের পরও কার্যক্রম অব্যাহত রাখে মেট্রোনেট। বিষয়টি নজরে এলে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে মেট্রোনেটকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। কমিশনের লাইসেন্সিং শাখা থেকে গত মার্চে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর সেই চিঠি পাঠানো হয়। তবে কার্যক্রম না গুটিয়ে উল্টো লাইসেন্স নবায়নের আবেদন পুনর্বিবেচনার জন্য কমিশনে চিঠি দেয় মেট্রোনেট। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন
টেলিকম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি অংশ রেভিনিউ শেয়ার হিসেবে পায় বিটিআরসি। মেট্রোনেটের আয়ের ভাগও বিটিআরসির পাওয়ার কথা। কিন্তু লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের কাছ থেকে বিটিআরসি এই সময়ের রেভিনিউ শেয়ার আদায় করেছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এটি যদি বকেয়া থাকে এবং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন চূড়ান্তভাবে খারিজ হয়ে যায় তাহলে এই দেড় বছরের পাওনা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ইতোমধ্যেই মালিকানাসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং গ্রাহক হারিয়ে ব্যবসার বড় অংশ খুইয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেট্রোনেট সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাসিক রাজস্ব ছিল আট কোটি টাকার বেশি। এখন সেটি ৪০ লাখেরও কম।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বলছে, বিটিআরসি থেকে পুনর্বিবেচনার চিঠি এলে নথিপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নামঞ্জুরের পর প্রত্যাশিত হচ্ছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠান আর কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তারপরও কী বিবেচনায় বিটিআরসি এমন অনুমতি দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবে। মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা তারাই। পুনর্বিবেচনার চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে যাবতীয় নথি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি। সংস্থাটির মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন উইংয়েও লিখিত প্রশ্ন পাঠানোসহ কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়েছে। তাতেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মেট্রোনেটের চেয়ারম্যান মুনওয়ার মঈনের সঙ্গেও কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। যোগাযোগের কারণ জানিয়ে খুদেবার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনিও সাড়া দেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















