ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেনের টাকার পাহাড় ৬ বলে ৬ উইকেট, জোড়া হ্যাটট্রিকের নজির বাগেরহাটে মৎস্য আড়ত নির্মাণে ‘পুকুরচুরি’র অভিযোগ এক বছরে বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস বি কমেছে ৩২ শতাংশ নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎ: তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাউবোর কাজে অনিয়ম দেখে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন এমপি জালাল উদ্দীন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্দিষ্ট সময়ে খেলা মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ‘প্রার্থনা করি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন কেনায় বড় অনিয়ম

পুলিশের ডিআইজি মঈনুলের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে ১০০ একর জমি দখলের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান শুরু

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মঈনুল হক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ একর জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার থাকাকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও ফুলবাড়িয়া বন বিভাগের জমি জবরদখল করেন। স্থানীয়ভাবে এই প্রকল্পটি ‘এসপি গরুর ফার্ম’ নামে পরিচিতি পায়।

এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী টিম গঠন করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখার উপপরিচালক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডিআইজি মঈনুল হকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে দায়িত্বপালনকালে প্রায় ১০০ একর জমি দখলের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন এটি আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে।

সূত্র আরও জানায়, অভিযুক্ত ডিআইজি মঈনুলের সঙ্গে বিতর্কিত সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তার মাধ্যমেই তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং খুলনা রেঞ্জের দায়িত্ব পেতেও সহায়তা নেন।

দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঈনুল হক (সাবেক পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ এবং সাবেক ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জ) ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও বিধিমালা, ২০০৭ অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন ইতোমধ্যে উন্মুক্ত অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে মঈনুল হক খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৭ আগস্ট তাকে সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে ডিআইজি মঈনুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাগজে-কলমে তিনি সারদায় কর্মরত থাকলেও সেখানে খোঁজ নিয়েও তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেনের টাকার পাহাড়

পুলিশের ডিআইজি মঈনুলের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে ১০০ একর জমি দখলের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান শুরু

আপডেট সময় ০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মঈনুল হক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ একর জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার থাকাকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও ফুলবাড়িয়া বন বিভাগের জমি জবরদখল করেন। স্থানীয়ভাবে এই প্রকল্পটি ‘এসপি গরুর ফার্ম’ নামে পরিচিতি পায়।

এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী টিম গঠন করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখার উপপরিচালক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডিআইজি মঈনুল হকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে দায়িত্বপালনকালে প্রায় ১০০ একর জমি দখলের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন এটি আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে।

সূত্র আরও জানায়, অভিযুক্ত ডিআইজি মঈনুলের সঙ্গে বিতর্কিত সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তার মাধ্যমেই তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং খুলনা রেঞ্জের দায়িত্ব পেতেও সহায়তা নেন।

দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঈনুল হক (সাবেক পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ এবং সাবেক ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জ) ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও বিধিমালা, ২০০৭ অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন ইতোমধ্যে উন্মুক্ত অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে মঈনুল হক খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৭ আগস্ট তাকে সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে ডিআইজি মঈনুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাগজে-কলমে তিনি সারদায় কর্মরত থাকলেও সেখানে খোঁজ নিয়েও তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।