মৌলভীবাজারে গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে বোরোধানের ফসল। হাওরের পাশাপাশি নন হাওর এলকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এবং ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর চাষ করা হয়েছে হাওর এলকায়। হাওরে প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান নন হাওর এলকায় চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে দেখা যায়, গত দুই দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল (সোমবার) রাত থেকে দ্রুত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কেওলার হাওরে প্রায় হাজার হেক্টর বোরোধান ডুবে গেছে। এ ছাড়া, জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, সদর উপজেলার হাওর অঞ্চলের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরোধান ডুবে গেছে।
কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।
কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে বোরোধান চাষ করেছিলাম। আজ সবকিছু ডুবে গেছে। এক একট জায়গা প্রায় ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান কাটার সময় ডুবে গেলো। আমার ভাগ্যটাই খারাপ।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এই অঞ্চলে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওর এলকায় ধান কাটা শেষের দিকে চলে এসেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে আমরা গত কয়েকদিন ধরে কৃষকদেরকে বলেছি, ধান দ্রুত কাটার জন্য। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরোধান ডুবেছে। তবে কি পরিমাণ ধান ডুবেছে, তা জানা যায়নি।
জেলা প্রতিনিধি 



















