ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালবৈশাখী ঝড়: মৌলভীবাজারে ২২৫ জায়গায় তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় সরকারি প্রভাবে জমি দখল ও জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদের পাহাড় গড়েছেন রফিকুল ইসলাম শফি ও শওকত আলী গয়না ছিনতাইয়ে ইটের আঘাতে নারীকে হত্যা, মরদেহ ফেলে দেয় পুকুরে দক্ষিণগাঁও-নন্দীপাড়ায় রাস্তা উন্নয়নের নতুন অধ্যায়, ডিএসসিসির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত ৩ বিএডিসি এখনও পিডি আবীরের ‘আওয়ামী রাজত্বে’ বন্দি ৯০ কিলোমিটার দূরে থেকেও মামলার আসামি সাবেক শিবির সভাপতি মিজান চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী পদ্মায় জেলের বড়শিতে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির কুমির যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

পদ্মায় জেলের বড়শিতে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির কুমির

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬ বার পড়া হয়েছে

​ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে একটি কুমির। বিরল প্রজাতির মিঠা পানির কুমির হওয়ায় জেলে সেটিকে না মেরে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন। বর্তমানে কুমিরটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে স্বপন বেপারীর (৪৮) পাতা ‘হাজারি বড়শিতে’ কুমিরটি আটকে যায়। (হাজারী বড়শি হলো মাছ ধরার একটি বিশেষ ও প্রাচীন পদ্ধতি, যেখানে একটি শক্ত ও দীর্ঘ দড়িতে অনেকগুলো বড়শি একসাথে বেঁধে জলাশয়ে পাতা হয়)।

এ সময় স্বপন বেপারী তার দুই ছেলে রাজিব বেপারী (১৬) ও রবিউল বেপারী (২৯) সহ মোট পাঁচজন মিলে কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন। উদ্ধারকারীদের সবার বাড়ি উপজেলার চর সালেপুর এলাকায়।

​পরে সকাল ৮টার দিকে কুমিরটি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসা হয়। স্বপন বেপারী জানান, তিনি প্রতিদিন পদ্মা নদীতে বড় মাছ শিকারের জন্য হাজারি বড়শি পাতেন। গত রাতেও তিনি গোপালপুর চর এলাকায় বড়শি পেতেছিলেন। আজ সোমবার সকালে গিয়ে দেখেন, একটি কুমির অসংখ্য বড়শি ও সুতার সঙ্গে আটকে আছে।

​তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে ও অন্যদের সহায়তায় কুমিরটি নদী থেকে উদ্ধার করি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য এটিকে কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে এসেছি। স্বপন বেপারীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক সাত ফুট এবং ওজন প্রায় দেড় মণ।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কুমিরটি কাজী বাড়ির ঘাট এলাকায় পানির মধ্যে নিরাপদ দূরত্বে বেঁধে রাখা হয়েছে। খুলনা থেকে বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত কুমিরটি যাতে কেউ ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।

​বন বিভাগ, ফরিদপুরের ফরেস্ট রেঞ্জার তাওহীদ হোসেন জানান, কুমিরটি বর্তমানে পানিতে রাখা হয়েছে। এটি বিপন্ন প্রজাতির মিঠা পানির কুমির। খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছালে এর সঠিক দৈর্ঘ্য ও ওজন নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালবৈশাখী ঝড়: মৌলভীবাজারে ২২৫ জায়গায় তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

পদ্মায় জেলের বড়শিতে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির কুমির

আপডেট সময় ০৫:০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

​ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে একটি কুমির। বিরল প্রজাতির মিঠা পানির কুমির হওয়ায় জেলে সেটিকে না মেরে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন। বর্তমানে কুমিরটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে স্বপন বেপারীর (৪৮) পাতা ‘হাজারি বড়শিতে’ কুমিরটি আটকে যায়। (হাজারী বড়শি হলো মাছ ধরার একটি বিশেষ ও প্রাচীন পদ্ধতি, যেখানে একটি শক্ত ও দীর্ঘ দড়িতে অনেকগুলো বড়শি একসাথে বেঁধে জলাশয়ে পাতা হয়)।

এ সময় স্বপন বেপারী তার দুই ছেলে রাজিব বেপারী (১৬) ও রবিউল বেপারী (২৯) সহ মোট পাঁচজন মিলে কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন। উদ্ধারকারীদের সবার বাড়ি উপজেলার চর সালেপুর এলাকায়।

​পরে সকাল ৮টার দিকে কুমিরটি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসা হয়। স্বপন বেপারী জানান, তিনি প্রতিদিন পদ্মা নদীতে বড় মাছ শিকারের জন্য হাজারি বড়শি পাতেন। গত রাতেও তিনি গোপালপুর চর এলাকায় বড়শি পেতেছিলেন। আজ সোমবার সকালে গিয়ে দেখেন, একটি কুমির অসংখ্য বড়শি ও সুতার সঙ্গে আটকে আছে।

​তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে ও অন্যদের সহায়তায় কুমিরটি নদী থেকে উদ্ধার করি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য এটিকে কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে এসেছি। স্বপন বেপারীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক সাত ফুট এবং ওজন প্রায় দেড় মণ।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কুমিরটি কাজী বাড়ির ঘাট এলাকায় পানির মধ্যে নিরাপদ দূরত্বে বেঁধে রাখা হয়েছে। খুলনা থেকে বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত কুমিরটি যাতে কেউ ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।

​বন বিভাগ, ফরিদপুরের ফরেস্ট রেঞ্জার তাওহীদ হোসেন জানান, কুমিরটি বর্তমানে পানিতে রাখা হয়েছে। এটি বিপন্ন প্রজাতির মিঠা পানির কুমির। খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছালে এর সঠিক দৈর্ঘ্য ও ওজন নিশ্চিত হওয়া যাবে।