সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

বিএডিসি এখনও পিডি আবীরের’আওয়ামী রাজত্বে’ বন্দি

# গোপালগঞ্জের ‘ডন’ থেকে ফ্যাসিবাদী চক্র:
# কোটি কোটি টাকা লুটপাট।
# ঝুঁকিতে রবি মৌসুমের বীজ ও সার সরবরাহ!

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারা দেশে স্বৈরাচার সরকারের মদদপুষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ করে সমতা ফিরিয়ে আনলেও, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এখনও আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তা ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের দখলে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপালগঞ্জের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোঃ আবীর হোসেন-কে কেন্দ্র করে এই সিন্ডিকেট শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে এবং বর্তমানে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ সেজে বহাল তবিয়তে থাকার চেষ্টা করছে। অনিয়ম ও ক্ষমতা অপব্যবহারের জেরে বিএডিসিতে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা আসন্ন রবি মৌসুমে বীজ, সার ও সেচ সুবিধা সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
জানা গেছে, বিএডিসির একাধারে প্রকল্প পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক (বীজ) এবং মানসম্মত বীজ আলু উৎপাদন সংরক্ষণ ও কৃষক পর্যায়ের বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্পের (৮০০ কোটি টাকার) পিডি মোঃ আবীর হোসেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিরোধিতা করে আসছিলেন। গোপালগঞ্জের ‘ডন’ খ্যাত এই কর্মকর্তা, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও গোপালগঞ্জের ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিনিয়র কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করেন। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান-কে ঘুষ দিয়ে তিনি এই বিশাল প্রকল্পের পিডি পদ বাগিয়ে নেন। ডিপিপি (ডিপার্টমেন্টাল প্রজেক্ট প্রপোজাল) অনুযায়ী একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার পিডি হওয়ার কথা থাকলেও, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিনিয়রদের টপকে এই দায়িত্ব নেন আবীর হোসেন।
কোল্ড স্টোরেজ সংস্কারে কোটি কোটি টাকা লোপাট: ঢাকায় সম্পদের পাহাড়ঃ
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মানসম্মত বীজ আলু প্রকল্পের নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ ও পুরাতন কোল্ড স্টোরেজ সংস্কারের নামে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে আবীর হোসেন কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনেক হিমাগারের জন্য নিম্নমানের মেশিনারিজ ও মালামাল ক্রয় করা হয়েছে, যার বাস্তব অবস্থা খুবই করুণ।
লুটপাটের খতিয়ান:
গোপালগঞ্জে বাড়ি হলেও লুটপাটের টাকায় তিনি রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় প্লট-ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ির বিশাল সম্পদ গড়েছেন। ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ ভাব নেওয়া এই পিডি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লবিস্টের মাধ্যমে সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেন, ফলে তার অনিয়ম-দুর্নীতি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না। অথচ তিনি নিজেই নিজেকে ‘সৎ ও কঠোর পরিশ্রমী’ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ আজিম উদ্দিন-কে বঞ্চিত করে মহাব্যবস্থাপক (বীজ) পদটিও দখল করেন।

*ফ্যাসিবাদী রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা: বিএনপিপন্থী নেতাদের ধরনাঃ
বিএডিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও বিএডিসি এখনও আবীর হোসেন ও মোস্তাফিজ সিন্ডিকেটের দখলে। বর্তমানে আবীর হোসেন টাকার বিনিময়ে বিএনপিপন্থী নেতাদের ধরনা দিয়ে বহাল তবিয়তে থেকে বিএডিসিতে ‘ফ্যাসিবাদী রাজত্ব’ কায়েমের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অধিকার বঞ্চিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই চক্রকে সরিয়ে বিএডিসি-কে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
*ষড়যন্ত্রের গোপন বৈঠক: রবি মৌসুম ব্যাহত করার চক্রান্ত?
সূত্র জানায়, বিএডিসি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতি ও বিএডিসি প্রকৌশলী সমিতির কতিপয় দুর্নীতিবাজ নেতারা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন এবং আসন্ন রবি মৌসুমে বীজ ও সার সরবরাহ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী দলীয় এসব কর্মকর্তারা গত ১১ আগস্ট কৃষি ভবনে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন:
* প্রধান প্রকৌশলী (সওকা) শিবেন্দ্র নারায়ন গোপ
* মহাব্যবস্থাপক (পাট বীজ) দেবদাস সাহা
* আলু বীজ বিভাগ (অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক) আবুল খায়ের মোঃ নুরুল ইসলাম
জানা গেছে, এইসব নেতা চেয়ারম্যানকে তাদের পক্ষে ষড়যন্ত্র করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বিগত হাসিনা সরকারের আমলে বিএডিসিতে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করে কৃষি ভবনকে দলীয় অফিসে পরিণত করেছিলেন। সচেতন ও বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের জোরালো প্রতিবাদের মুখে এই চক্রান্ত ভেস্তে যায়। মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতেও এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

💵 নুরুল ইসলাম ও প্রদীপ কুমারের সিন্ডিকেট: লুটেছে শত কোটি টাকা
বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলু বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মোঃ নূরুল ইসলাম একজন আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা। তিনি বাইরে সজ্জন সেজে ভেতরে দুর্নীতি চালিয়েছেন।সাবেক কৃষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের হয়ে তিনি বিএডিসির বীজ বিভাগের প্রকল্প ও মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে ছিলেন।
* লুটপাট: ডাল ও তৈল বীজ প্রকল্পের পিডি থাকাকালে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার-কে কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগে পোস্টিং নেন এবং যথারীতি দুর্নীতি শুরু করেন।
* সম্পদ:
তার রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে। উত্তরায় বাড়ি কিনেছেন এবং বর্তমানে বনানীর বিলাসী ফ্ল্যাটে (আড়াই কোটি টাকা মূল্যের) বসবাস করছেন। আমেরিকাতেও বাড়ি কিনেছেন এবং তার ছেলে-মেয়ে সেখানে পড়াশোনা করছে। তিনি যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নুরুল ইসলামের আশ্রয়দাতা ছিলেন তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার দে, যাকে সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। প্রদীপ কুমার শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ধান, গম, ভুট্টা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, এজিএম বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগ এবং মহাব্যবস্থাপক (বীজ) থাকাকালে শত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরীক্ষা বিভাগের অডিট আপত্তিও রয়েছে।
জরুরি পদক্ষেপ না নিলে বড় বিপর্যয়:
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আওয়ামী সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি ও লোপাটকারী কতিপয় নেতা নামধারী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অবিলম্বে সরিয়ে না দিলে আসন্ন রবি মৌসুমে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, আলু, ডাল, তেলসহ অন্যান্য বীজ ও সার (টিএসপি, এমওপি ও ডিএসপি) সরবরাহ এবং সেচ সুবিধা সরবরাহে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

বিএডিসি এখনও পিডি আবীরের’আওয়ামী রাজত্বে’ বন্দি

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

# গোপালগঞ্জের ‘ডন’ থেকে ফ্যাসিবাদী চক্র:
# কোটি কোটি টাকা লুটপাট।
# ঝুঁকিতে রবি মৌসুমের বীজ ও সার সরবরাহ!

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারা দেশে স্বৈরাচার সরকারের মদদপুষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ করে সমতা ফিরিয়ে আনলেও, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এখনও আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তা ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের দখলে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপালগঞ্জের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোঃ আবীর হোসেন-কে কেন্দ্র করে এই সিন্ডিকেট শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে এবং বর্তমানে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ সেজে বহাল তবিয়তে থাকার চেষ্টা করছে। অনিয়ম ও ক্ষমতা অপব্যবহারের জেরে বিএডিসিতে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা আসন্ন রবি মৌসুমে বীজ, সার ও সেচ সুবিধা সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
জানা গেছে, বিএডিসির একাধারে প্রকল্প পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক (বীজ) এবং মানসম্মত বীজ আলু উৎপাদন সংরক্ষণ ও কৃষক পর্যায়ের বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্পের (৮০০ কোটি টাকার) পিডি মোঃ আবীর হোসেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিরোধিতা করে আসছিলেন। গোপালগঞ্জের ‘ডন’ খ্যাত এই কর্মকর্তা, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও গোপালগঞ্জের ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিনিয়র কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করেন। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান-কে ঘুষ দিয়ে তিনি এই বিশাল প্রকল্পের পিডি পদ বাগিয়ে নেন। ডিপিপি (ডিপার্টমেন্টাল প্রজেক্ট প্রপোজাল) অনুযায়ী একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার পিডি হওয়ার কথা থাকলেও, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিনিয়রদের টপকে এই দায়িত্ব নেন আবীর হোসেন।
কোল্ড স্টোরেজ সংস্কারে কোটি কোটি টাকা লোপাট: ঢাকায় সম্পদের পাহাড়ঃ
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মানসম্মত বীজ আলু প্রকল্পের নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ ও পুরাতন কোল্ড স্টোরেজ সংস্কারের নামে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে আবীর হোসেন কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনেক হিমাগারের জন্য নিম্নমানের মেশিনারিজ ও মালামাল ক্রয় করা হয়েছে, যার বাস্তব অবস্থা খুবই করুণ।
লুটপাটের খতিয়ান:
গোপালগঞ্জে বাড়ি হলেও লুটপাটের টাকায় তিনি রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় প্লট-ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ির বিশাল সম্পদ গড়েছেন। ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ ভাব নেওয়া এই পিডি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লবিস্টের মাধ্যমে সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেন, ফলে তার অনিয়ম-দুর্নীতি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না। অথচ তিনি নিজেই নিজেকে ‘সৎ ও কঠোর পরিশ্রমী’ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ আজিম উদ্দিন-কে বঞ্চিত করে মহাব্যবস্থাপক (বীজ) পদটিও দখল করেন।

*ফ্যাসিবাদী রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা: বিএনপিপন্থী নেতাদের ধরনাঃ
বিএডিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও বিএডিসি এখনও আবীর হোসেন ও মোস্তাফিজ সিন্ডিকেটের দখলে। বর্তমানে আবীর হোসেন টাকার বিনিময়ে বিএনপিপন্থী নেতাদের ধরনা দিয়ে বহাল তবিয়তে থেকে বিএডিসিতে ‘ফ্যাসিবাদী রাজত্ব’ কায়েমের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অধিকার বঞ্চিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই চক্রকে সরিয়ে বিএডিসি-কে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
*ষড়যন্ত্রের গোপন বৈঠক: রবি মৌসুম ব্যাহত করার চক্রান্ত?
সূত্র জানায়, বিএডিসি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতি ও বিএডিসি প্রকৌশলী সমিতির কতিপয় দুর্নীতিবাজ নেতারা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন এবং আসন্ন রবি মৌসুমে বীজ ও সার সরবরাহ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী দলীয় এসব কর্মকর্তারা গত ১১ আগস্ট কৃষি ভবনে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন:
* প্রধান প্রকৌশলী (সওকা) শিবেন্দ্র নারায়ন গোপ
* মহাব্যবস্থাপক (পাট বীজ) দেবদাস সাহা
* আলু বীজ বিভাগ (অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক) আবুল খায়ের মোঃ নুরুল ইসলাম
জানা গেছে, এইসব নেতা চেয়ারম্যানকে তাদের পক্ষে ষড়যন্ত্র করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বিগত হাসিনা সরকারের আমলে বিএডিসিতে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করে কৃষি ভবনকে দলীয় অফিসে পরিণত করেছিলেন। সচেতন ও বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের জোরালো প্রতিবাদের মুখে এই চক্রান্ত ভেস্তে যায়। মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতেও এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

💵 নুরুল ইসলাম ও প্রদীপ কুমারের সিন্ডিকেট: লুটেছে শত কোটি টাকা
বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলু বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মোঃ নূরুল ইসলাম একজন আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা। তিনি বাইরে সজ্জন সেজে ভেতরে দুর্নীতি চালিয়েছেন।সাবেক কৃষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের হয়ে তিনি বিএডিসির বীজ বিভাগের প্রকল্প ও মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে ছিলেন।
* লুটপাট: ডাল ও তৈল বীজ প্রকল্পের পিডি থাকাকালে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার-কে কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগে পোস্টিং নেন এবং যথারীতি দুর্নীতি শুরু করেন।
* সম্পদ:
তার রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে। উত্তরায় বাড়ি কিনেছেন এবং বর্তমানে বনানীর বিলাসী ফ্ল্যাটে (আড়াই কোটি টাকা মূল্যের) বসবাস করছেন। আমেরিকাতেও বাড়ি কিনেছেন এবং তার ছেলে-মেয়ে সেখানে পড়াশোনা করছে। তিনি যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নুরুল ইসলামের আশ্রয়দাতা ছিলেন তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার দে, যাকে সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। প্রদীপ কুমার শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ধান, গম, ভুট্টা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, এজিএম বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগ এবং মহাব্যবস্থাপক (বীজ) থাকাকালে শত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরীক্ষা বিভাগের অডিট আপত্তিও রয়েছে।
জরুরি পদক্ষেপ না নিলে বড় বিপর্যয়:
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আওয়ামী সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি ও লোপাটকারী কতিপয় নেতা নামধারী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অবিলম্বে সরিয়ে না দিলে আসন্ন রবি মৌসুমে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, আলু, ডাল, তেলসহ অন্যান্য বীজ ও সার (টিএসপি, এমওপি ও ডিএসপি) সরবরাহ এবং সেচ সুবিধা সরবরাহে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।