জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে বাড়িয়েছে সরকার। দূরপাল্লার পরিবহনের সাথে সাথে আন্তঃজেলা ও মহানগরে চলাচল করা বাসের ভাড়াও বেড়েছে এতে। তবে ঢাকা মহানগরে চলাচল করা পরিবহনের মালিক ও চালকরা বলছেন, যে হারে ভাড়া বেড়েছে তাতে মোট দূরত্বে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ চার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানীর সদরঘাট থেকে নবীনগরের দূরত্ব ৩৭ কিলোমিটার। এ রুটে আগে ভাড়া ছিল ৯০ টাকা, বর্তমানে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা হয়েছে ৯৪ টাকা। কিন্তু এখানে যাত্রীদের কাছ থেকে আগেই ১০০ টাকা নেওয়া হতো। একইভাবে সদরঘাট থেকে এয়ারপোর্টে কুড়িল বিশ্বরোড, আবদুল্লাহপুর হয়ে বাইপাইল পর্যন্ত দূরত্বও ৩৭.৩ কিলোমিটার। এ রুটেও বর্তমান ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা, কিন্তু আগের ভাড়া ছিল ৯০ টাকা। এ রুটে বর্তমানে ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
সাভার পরিবহনের লাইনম্যান মনির হোসেনের দাবি, তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে দূরত্ব বিবেচনা করে যে হারে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাতে আমাদের অনেক লস হয়ে যায়। দূরপাল্লার বাসের সাথে মিল রেখে আমাদের লোকাল বাসের ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। কারণ আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের মধ্যে থাকতে হয়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে আমাদের প্রতি কিলোমিটারে তেলের খরচ বেশি হয়। এখন যে হারে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, তাতে মোট দূরত্বে সর্বোচ্চ চার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। যানজটে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে আমাদের লস হয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। এ রুটের আগের ভাড়া ছিল ৫০ টাকা।নতুন ভাড়ায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ টাকা। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা করে। আলিফ পরিবহনের চালক সোহেল বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের জ্যামে থাকতে হয়। এর ফলে তেলের খরচও বেশি হয়। বর্তমানে যে হারে ভাড়া বেড়েছে, তা আমরা আগেই নিতাম। তাই আমাদের তেমন সমস্যা হয়নি।
আশরাফুল আলম নামে এক যাত্রী বলেন, রুটে বাসের সংখ্যা কমে গেছে। যে কারণে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। ভাড়াও ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি নিচ্ছে। রামপুরা থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত আমার কাছ থেকে ৭০ টাকা নিয়েছে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে বলে। চার্ট দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে চায় না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























