ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ

  • মোঃ মারুফ হোসেন
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক ঘণ্টাও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী এক শিক্ষার্থী জানান,রাতে পড়াশোনা করতে পারি না, গরমে ঘুমানো যায় না। পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে বসে থাকতে হয়। এতে আমাদের পড়াশোনার বড় ক্ষতি হচ্ছে।

গৃহিণীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এক গৃহিণী বলেন, দিনে রাতে ঠিকমতো রান্না করা যায় না। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট আরও বেশি বেড়েছে। এক অটোরিকশা চালক বলেন, গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। সারাদিন বসে থাকতে হয়, আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চললে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে। এক আইসক্রিম বিক্রেতা জানান, ফ্রিজে আইসক্রিম রাখা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় সব গলে নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

এক দোকানদার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে ক্রেতা আসে না। ফ্যান ও আলো না থাকায় কেউ দোকানে বসতে চায় না। ফলে বিক্রি অনেক কমে গেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাজেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এক সংবাদকর্মী বলেন, ফোনে ঠিকমতো চার্জ থাকে না। ল্যাপটপ চালানো যায় না, নিউজ কভার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও অসুস্থ ও বৃদ্ধদের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। এক বাসিন্দা বলেন, গরমে অসুস্থ মানুষ আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফ্যান ছাড়া থাকা সম্ভব না, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই।

এ অবস্থায় সবাই চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সেবা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।
অনেকেই জানান, অভিযোগ নম্বরে ফোন করলে কেউ রিসিভ করে না। ফলে সমস্যার কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর লাইভ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখেন অফিস তালাবদ্ধ। তবে ভেতরে ফ্যান ও বাতি চালু ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হোক। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সঠিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক ঘণ্টাও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী এক শিক্ষার্থী জানান,রাতে পড়াশোনা করতে পারি না, গরমে ঘুমানো যায় না। পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে বসে থাকতে হয়। এতে আমাদের পড়াশোনার বড় ক্ষতি হচ্ছে।

গৃহিণীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এক গৃহিণী বলেন, দিনে রাতে ঠিকমতো রান্না করা যায় না। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট আরও বেশি বেড়েছে। এক অটোরিকশা চালক বলেন, গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। সারাদিন বসে থাকতে হয়, আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চললে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে। এক আইসক্রিম বিক্রেতা জানান, ফ্রিজে আইসক্রিম রাখা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় সব গলে নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

এক দোকানদার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে ক্রেতা আসে না। ফ্যান ও আলো না থাকায় কেউ দোকানে বসতে চায় না। ফলে বিক্রি অনেক কমে গেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাজেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এক সংবাদকর্মী বলেন, ফোনে ঠিকমতো চার্জ থাকে না। ল্যাপটপ চালানো যায় না, নিউজ কভার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও অসুস্থ ও বৃদ্ধদের কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। এক বাসিন্দা বলেন, গরমে অসুস্থ মানুষ আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফ্যান ছাড়া থাকা সম্ভব না, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই।

এ অবস্থায় সবাই চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সেবা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।
অনেকেই জানান, অভিযোগ নম্বরে ফোন করলে কেউ রিসিভ করে না। ফলে সমস্যার কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর লাইভ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখেন অফিস তালাবদ্ধ। তবে ভেতরে ফ্যান ও বাতি চালু ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হোক। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সঠিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।