সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

গাংনীতে জাল সনদ ও ব্যাকডেটেড নিয়োগের অভিযোগ: অভিযুক্ত বিটিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুজিবুর রহমান

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বি.টি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ও ‘ব্যাকডেটেড’ নিয়োগের মাধ্যমে পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর- K৫৬৮১১৩২৭।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান ২০০৪ সালে বিধি মোতাবেক সহকারী শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। তবে ২০০৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) সুবিধা পাননি। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষকের পদটি শূন্য হলে ২০২১ সালে তাকে সেই পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ২০০৫ সাল থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া এনটিআরসিএ-র (NTRCA) অধীনে চলে যাওয়ায় এবং শিক্ষক নিবন্ধন সনদ না থাকায় তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৪ সালের তারিখ ব্যবহার করে (ব্যাকডেট) পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে এবং তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন তৈরি করা হয়। এছাড়াও জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার), বগুড়া থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মর্মে একটি ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রয়োজনীয় ফাইল প্রস্তুত করেন মুজিবুর রহমান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় সিএস কপিতে (CS Copy) ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পেরে মুজিবুর রহমান নিজেই তাঁদের স্বাক্ষর জাল করেছেন।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ২০০৪ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে এড়িয়ে যান। বর্তমান গাংনী অতিরিক্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “এই বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যদি নিয়োগ বিধি-বহির্ভূত প্রমাণিত হয়, তবে আমরা তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেবো। কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “মো. মুজিবুর রহমানের জালিয়াতির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০২১ সালে একমত পোষণ না করায়, আমাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে গত ২৭ মাস বিদ্যালয়ের বাইরে রাখা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড আমাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার জন্য সভাপতিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মুজিবুর গংরা সভাপতিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে যোগদান করতে দিচ্ছে না। সভাপতি আমাকে যোগদান করতে দিচ্ছেন না বলেই আমি তাঁর বরাবর এই অভিযোগ করেছি। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আমি সকল তথ্য-প্রমাণ দিতে প্রস্তুত আছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

গাংনীতে জাল সনদ ও ব্যাকডেটেড নিয়োগের অভিযোগ: অভিযুক্ত বিটিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুজিবুর রহমান

আপডেট সময় ০২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বি.টি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ও ‘ব্যাকডেটেড’ নিয়োগের মাধ্যমে পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর- K৫৬৮১১৩২৭।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান ২০০৪ সালে বিধি মোতাবেক সহকারী শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। তবে ২০০৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) সুবিধা পাননি। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষকের পদটি শূন্য হলে ২০২১ সালে তাকে সেই পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ২০০৫ সাল থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া এনটিআরসিএ-র (NTRCA) অধীনে চলে যাওয়ায় এবং শিক্ষক নিবন্ধন সনদ না থাকায় তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৪ সালের তারিখ ব্যবহার করে (ব্যাকডেট) পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে এবং তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন তৈরি করা হয়। এছাড়াও জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার), বগুড়া থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মর্মে একটি ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রয়োজনীয় ফাইল প্রস্তুত করেন মুজিবুর রহমান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় সিএস কপিতে (CS Copy) ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পেরে মুজিবুর রহমান নিজেই তাঁদের স্বাক্ষর জাল করেছেন।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ২০০৪ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে এড়িয়ে যান। বর্তমান গাংনী অতিরিক্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “এই বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যদি নিয়োগ বিধি-বহির্ভূত প্রমাণিত হয়, তবে আমরা তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেবো। কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “মো. মুজিবুর রহমানের জালিয়াতির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০২১ সালে একমত পোষণ না করায়, আমাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে গত ২৭ মাস বিদ্যালয়ের বাইরে রাখা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড আমাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার জন্য সভাপতিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মুজিবুর গংরা সভাপতিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে যোগদান করতে দিচ্ছে না। সভাপতি আমাকে যোগদান করতে দিচ্ছেন না বলেই আমি তাঁর বরাবর এই অভিযোগ করেছি। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আমি সকল তথ্য-প্রমাণ দিতে প্রস্তুত আছি।