ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একের পর এক হত্যাচেষ্টা: যেভাবে রক্ষা পেয়েছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনি প্রচারণার দীর্ঘ সময়ে বারবার প্রাণঘাতী হামলা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিসের কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকবার সশস্ত্র হামলাকারীরা তার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় ট্রাম্প রক্ষা পেলেও এই ধারাবাহিক হামলা মার্কিন রাজনীতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ ও নিকটতম হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। পেনসিলভানিয়ার বাটলার এলাকায় একটি নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় পাশ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদ থেকে থমাস ক্রুকস নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবক ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। সেই হামলায় উপস্থিত একজন দর্শক নিহত হন এবং ট্রাম্পের কান গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হামলাকারী ক্রুকস নিহত হন। ওই দিনের ঘটনার ফুটেজ সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।পেনসিলভানিয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সেপ্টেম্বর মাসে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গলফ কোর্সে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের হামলার মুখে পড়েন ট্রাম্প। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, রায়ান রাউথ নামে এক ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্রাম্প যখন গলফ খেলছিলেন, তখন রাউথ ঝোপের আড়ালে রাইফেল নিয়ে ওত পেতে ছিলেন। তবে গুলি করার আগেই সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট তাকে দেখে ফেলেন এবং ধাওয়া করে গ্রেফতার করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত রাউথকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

একই মাসের শুরুর দিকে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে আরেকটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অস্টিন টাকার মার্টিন নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ শটগান নিয়ে জোরপূর্বক ট্রাম্পের ব্যক্তিগত এই রিসোর্টে ঢুকে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অনুপ্রবেশকারী যুবককে সেখানে গুলি করে হত্যা করেন দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা।

এই একের পর এক ঘটনা প্রমাণ করে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে এফবিআইসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একের পর এক হত্যাচেষ্টা: যেভাবে রক্ষা পেয়েছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনি প্রচারণার দীর্ঘ সময়ে বারবার প্রাণঘাতী হামলা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিসের কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকবার সশস্ত্র হামলাকারীরা তার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় ট্রাম্প রক্ষা পেলেও এই ধারাবাহিক হামলা মার্কিন রাজনীতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ ও নিকটতম হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। পেনসিলভানিয়ার বাটলার এলাকায় একটি নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় পাশ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদ থেকে থমাস ক্রুকস নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবক ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। সেই হামলায় উপস্থিত একজন দর্শক নিহত হন এবং ট্রাম্পের কান গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হামলাকারী ক্রুকস নিহত হন। ওই দিনের ঘটনার ফুটেজ সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।পেনসিলভানিয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সেপ্টেম্বর মাসে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গলফ কোর্সে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের হামলার মুখে পড়েন ট্রাম্প। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, রায়ান রাউথ নামে এক ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্রাম্প যখন গলফ খেলছিলেন, তখন রাউথ ঝোপের আড়ালে রাইফেল নিয়ে ওত পেতে ছিলেন। তবে গুলি করার আগেই সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট তাকে দেখে ফেলেন এবং ধাওয়া করে গ্রেফতার করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত রাউথকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

একই মাসের শুরুর দিকে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে আরেকটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অস্টিন টাকার মার্টিন নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ শটগান নিয়ে জোরপূর্বক ট্রাম্পের ব্যক্তিগত এই রিসোর্টে ঢুকে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অনুপ্রবেশকারী যুবককে সেখানে গুলি করে হত্যা করেন দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা।

এই একের পর এক ঘটনা প্রমাণ করে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে এফবিআইসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।