সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ‘অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে : শিল্পমন্ত্রী একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান! পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক দুই মাস পর আবারও শুরু চাল বিতরণ, সুবিধা পাচ্ছে ১৭ হাজার পরিবার বরগুনায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পানি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার লুট, কাজের আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেটার স্বাধীনতা ও আস্থা বাড়াতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। দোকানগুলোতে আগে বিভিন্ন অপরিচিত ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল দেখা গেলেও এখন চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আর পরিচিত ব্র্যান্ডের তেলও চাহিদা অনুযায়ী খুবই সামান্য মিলছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ দোকানিই তাদের পছন্দের ও পরিচিত ক্রেতাদের ধরে রাখতে লুকিয়ে বিক্রি করছেন বোতলজাত সয়াবিন। অপরিচিত কাস্টমারদের কোনো কোনো দোকানি অল্প বোতলজাত সয়াবিন থাকা সত্ত্বেও স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন তেল নেই। এই সুযোগে অবশ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল।

ঈদুল ফিতরের আগেই বাজারে খোলা তেলের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। ঈদের পর গত কয়েক দিনে সেটি আরও বেড়ে বিভিন্ন বাজারে ন্যূনতম ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২২০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হতেও দেখা গেছে। আর বোতলজাত তেল আগের দামে ১৯৫ টাকায় প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে। তবে পছন্দের ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন খুঁজে পাওয়া এখন সৌভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই চিত্র অবশ্য দুই-এক দিনের নয়; ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহে চরম সংকট দেখা যায়। এমনকি সুপারশপগুলো থেকেও একপর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। এখনও মাঝে মাঝে সুপারশপগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। আজ অবশ্য ঢাকার মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল, খিলগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন’, ‘ডেইলি শপিং’ এবং স্থানীয় কয়েকটি সুপারশপে অল্প পরিমাণ বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মহল্লার মুদি দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা মতো তেল দিচ্ছে না ডিলাররা। অনেক ক্ষেত্রে তেল চাইলে মানতে হচ্ছে তাদের শর্ত। কখনো কখনো তেলের সঙ্গে কোম্পানির অন্যান্য পণ্য ক্রয়ের শর্তে অল্প পরিমাণ তেল মিলছে। আগের মতো বাকিতেও পাওয়া যাচ্ছে না তেল। কেউ আবার ফোনে অর্ডার নিলেও দোকান পর্যন্ত তেল পৌঁছে দিচ্ছেন না। ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল আনতে বাড়তি পরিবহন খরচ হচ্ছে। ডিলার কমিশনও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন নানামুখী ভোগান্তির পর বোতলজাত সয়াবিন এনে আগের মতো লাভ থাকছে না তাদের। এতে বোতলজাত সয়াবিন সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, তারা গত সপ্তাহে ফ্রেশ ব্র্যান্ডের অল্প কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল সংগ্রহ করেছে। খোলা তেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল নিতে চায়। কিন্তু, সবাইকে বোতলজাত সয়াবিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যারা তাদের পুরোনো ক্রেতা রয়েছেন, তাদের ধরে রাখতে কিছু তেল লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছেন।

এদিকে বাজারে অধিকাংশ দোকানেই খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো দোকানে ২২০ টাকায় এক কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াতে পারেনি কোম্পানিগুলো। এই পরিস্থিতিতে ব্যয় বেশি হওয়ায় ভোজ্যতেল উৎপাদক কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়েছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬

কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট

আপডেট সময় ০২:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। দোকানগুলোতে আগে বিভিন্ন অপরিচিত ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল দেখা গেলেও এখন চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আর পরিচিত ব্র্যান্ডের তেলও চাহিদা অনুযায়ী খুবই সামান্য মিলছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ দোকানিই তাদের পছন্দের ও পরিচিত ক্রেতাদের ধরে রাখতে লুকিয়ে বিক্রি করছেন বোতলজাত সয়াবিন। অপরিচিত কাস্টমারদের কোনো কোনো দোকানি অল্প বোতলজাত সয়াবিন থাকা সত্ত্বেও স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন তেল নেই। এই সুযোগে অবশ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল।

ঈদুল ফিতরের আগেই বাজারে খোলা তেলের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। ঈদের পর গত কয়েক দিনে সেটি আরও বেড়ে বিভিন্ন বাজারে ন্যূনতম ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২২০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হতেও দেখা গেছে। আর বোতলজাত তেল আগের দামে ১৯৫ টাকায় প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে। তবে পছন্দের ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন খুঁজে পাওয়া এখন সৌভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই চিত্র অবশ্য দুই-এক দিনের নয়; ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহে চরম সংকট দেখা যায়। এমনকি সুপারশপগুলো থেকেও একপর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। এখনও মাঝে মাঝে সুপারশপগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। আজ অবশ্য ঢাকার মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল, খিলগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন’, ‘ডেইলি শপিং’ এবং স্থানীয় কয়েকটি সুপারশপে অল্প পরিমাণ বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মহল্লার মুদি দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা মতো তেল দিচ্ছে না ডিলাররা। অনেক ক্ষেত্রে তেল চাইলে মানতে হচ্ছে তাদের শর্ত। কখনো কখনো তেলের সঙ্গে কোম্পানির অন্যান্য পণ্য ক্রয়ের শর্তে অল্প পরিমাণ তেল মিলছে। আগের মতো বাকিতেও পাওয়া যাচ্ছে না তেল। কেউ আবার ফোনে অর্ডার নিলেও দোকান পর্যন্ত তেল পৌঁছে দিচ্ছেন না। ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল আনতে বাড়তি পরিবহন খরচ হচ্ছে। ডিলার কমিশনও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন নানামুখী ভোগান্তির পর বোতলজাত সয়াবিন এনে আগের মতো লাভ থাকছে না তাদের। এতে বোতলজাত সয়াবিন সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, তারা গত সপ্তাহে ফ্রেশ ব্র্যান্ডের অল্প কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল সংগ্রহ করেছে। খোলা তেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল নিতে চায়। কিন্তু, সবাইকে বোতলজাত সয়াবিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যারা তাদের পুরোনো ক্রেতা রয়েছেন, তাদের ধরে রাখতে কিছু তেল লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছেন।

এদিকে বাজারে অধিকাংশ দোকানেই খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো দোকানে ২২০ টাকায় এক কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াতে পারেনি কোম্পানিগুলো। এই পরিস্থিতিতে ব্যয় বেশি হওয়ায় ভোজ্যতেল উৎপাদক কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়েছে।