ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্কুল ছুটি, টয়লেটে আটকা পড়ল তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী!

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর টয়লেটে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেও কারও সাড়া না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হলে শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া নামের ওই শিক্ষার্থী অজান্তেই ভেতরে আটকা পড়ে যায়।

দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে শিশুটি। তার চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা, পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। স্কুলে খোঁজ নিতে এসে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধার কাজে যুক্ত হন।

পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। তবে ভবনের কলাপসিবল দরজা বন্ধ থাকায় প্রথমে শিশুটিকে বের করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোন রিসিভ না করে কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে, এটি স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির মামলায় টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল

স্কুল ছুটি, টয়লেটে আটকা পড়ল তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী!

আপডেট সময় ১২:৪০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর টয়লেটে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেও কারও সাড়া না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হলে শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া নামের ওই শিক্ষার্থী অজান্তেই ভেতরে আটকা পড়ে যায়।

দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে শিশুটি। তার চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা, পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। স্কুলে খোঁজ নিতে এসে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধার কাজে যুক্ত হন।

পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। তবে ভবনের কলাপসিবল দরজা বন্ধ থাকায় প্রথমে শিশুটিকে বের করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোন রিসিভ না করে কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে, এটি স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।