ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রডমিস্ত্রি নিহত ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েও নড়বড়ে সূর্যকুমারের অধিনায়কত্ব শেষ চারে ব্রাদার্স, ‘আন্দোলনে’ আবাহনী-মোহামেডানের ফুটবলাররা মোহাম্মদপুর টাউনহলের মূলত সভাপতি কে, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রকাশ দু’শতাধিক বছরের পুরনো ফুলবাড়ী মহদিপুর শিব-কালী-দুর্গা মন্দির চত্বরের মন্ডপ মেলায় নর-নারীদের মিলনমেলা কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হচ্ছে শিগগিরই ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড : অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল ৩ দিনের দিনের রিমান্ডে ফাকরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ বছরের ভোগদখলকৃত জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তদন্তে মিলল সাবেক আইজিপি মামুনের সম্পৃক্ততা, হচ্ছেন আসামি

দু’শতাধিক বছরের পুরনো ফুলবাড়ী মহদিপুর শিব-কালী-দুর্গা মন্দির চত্বরের মন্ডপ মেলায় নর-নারীদের মিলনমেলা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদিপুর শিব-কালী-দুর্গা মন্দির চত্বরে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত বসেছিল দু’শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মন্ডপ মেলা। এই মেলাটি স্থানীয়দের কাছে আলু খাওয়া মন্ডপ মেলা নামেই বেশি পরিচিত। মন্ডপ মেলাকে কেন্দ্র করে মেলাটি মূলত পরিণত হয়েছিল বিভিন্ন গ্রামের নর-নারীদের মিলনমেলায়।

মন্দির চত্বরে মেলাকে কেন্দ্র করে বসেছিল বিভিন্ন মিষ্টি মন্ডার দোকান, মেলায় খাবারের মধ্যে সকলের কাছে প্রিয় ছিল গুড়ের জিলাপী। বসেছিল মেয়েদের প্রসাধন সামগ্রীর দোকান, ছিল পরিবারের দা-বটি, খন্দা, ছলনা প্রভৃতির দোকানও। শিশুদের জন্য নানা রঙের বেগুল ও খেলাপাতির দোকান ছিল দেখার মতো। ছিল শাক-সবজির দোকানও।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় পুরুষ দর্শনার্থীর চেয়ে নারীদের সংখ্যাই ছিল আধিক্য। মেলায় আগত সনাতন ধর্মালম্বী সব বয়সী নারী ও পুরুষ মেলায় প্রবেশ করেই শিব-কালী ও দুর্গা মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেই মেলায় ঘুরতে বেরিয়েছেন।

মেলায় আগত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনাতন ধর্মালম্বী কলেজ শিক্ষার্থী অমলী হেম্ব্রম ও পাওয়ালিয় হেম্ব্রম বলেন, ছোটবেলা থেকেই নিজ নিজ মায়ের হাত ধরে পহেলা বৈশাখের এই আলু খাওয়া মন্ডপ মেলায় আসা শুরু। মেলায় এসেই মায়েরা প্রথমে মন্দিরে পূর্জা অর্চনা করে মেলা ঘুরাতে বের হতেন। এখন তারা একাই চলে আসের ধর্মীয় অনুভূতিসহ মেলার টানে। বছরে একবার গ্রামের মধ্যে মেলাটি সকলকেই কিছুটা হলেও বিনোদনের খোরাক জোগায়। মেলায় দেখা হয় নতুন ও পুরতন সহতীর্থ শিক্ষার্থী বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে।

মেলায় আসা পার্শ্ববর্তী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ধীরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই এ মেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা শুরু, এখনও প্রতিবছর আসা হয়। এ মেলা কখন থেকে শুরু সে কথা বাবাও বলতে পারেননি। মেলার বয়স দু’শ বছরেরও বেশি।

মেলায় আগত ফুলবাড়ী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাংগঠনিক সম্পাদক হিরেন্দ্র নাথ বর্মন হিরু বলেন, পহেলা বৈশাখে মন্দির চত্বরে মেলায় ঘোরাঘুরির মাধ্যমে মন্দির দর্শন ও পূর্জা অর্চনাও হয়ে যায়, এজন্য প্রতি বছরই পরিবার নিয়ে মেলায় আসা হয়। কিছু সময়ের জন্য হলেও খুব আনন্দ উপভোগ করা যায়। আবার মেলায় আসলে অনেক আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা স্বাক্ষাতও হয়ে যায়।

শিব-কালী-দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শ্রী মহেন্দ্র নাথ সরকার মন্টু বলেন, তার বয়স এখন ৮৪ বছর। তিনিও জানেন না এ মেলা কবে থেকে শুরু হয়েছে। তবে বাপ-দাদার কাছে যে কথা শুনেছেন তাতে এ মেলার বয়স এখন প্রায় দু’শ বছর পার হয়ে গেছে। মন্দিরের পুরনো বট আর পাকড় গাছের বয়স দেখেই বোঝা যায় মেলার বয়স ২০০ বছরেরও বেশি হবে। মেলা দেখতে বিভিন্ন এলাকার সকল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এখন পর্যন্ত এ মেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলসহ গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত

দু’শতাধিক বছরের পুরনো ফুলবাড়ী মহদিপুর শিব-কালী-দুর্গা মন্দির চত্বরের মন্ডপ মেলায় নর-নারীদের মিলনমেলা

আপডেট সময় ০৪:০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদিপুর শিব-কালী-দুর্গা মন্দির চত্বরে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত বসেছিল দু’শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মন্ডপ মেলা। এই মেলাটি স্থানীয়দের কাছে আলু খাওয়া মন্ডপ মেলা নামেই বেশি পরিচিত। মন্ডপ মেলাকে কেন্দ্র করে মেলাটি মূলত পরিণত হয়েছিল বিভিন্ন গ্রামের নর-নারীদের মিলনমেলায়।

মন্দির চত্বরে মেলাকে কেন্দ্র করে বসেছিল বিভিন্ন মিষ্টি মন্ডার দোকান, মেলায় খাবারের মধ্যে সকলের কাছে প্রিয় ছিল গুড়ের জিলাপী। বসেছিল মেয়েদের প্রসাধন সামগ্রীর দোকান, ছিল পরিবারের দা-বটি, খন্দা, ছলনা প্রভৃতির দোকানও। শিশুদের জন্য নানা রঙের বেগুল ও খেলাপাতির দোকান ছিল দেখার মতো। ছিল শাক-সবজির দোকানও।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় পুরুষ দর্শনার্থীর চেয়ে নারীদের সংখ্যাই ছিল আধিক্য। মেলায় আগত সনাতন ধর্মালম্বী সব বয়সী নারী ও পুরুষ মেলায় প্রবেশ করেই শিব-কালী ও দুর্গা মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেই মেলায় ঘুরতে বেরিয়েছেন।

মেলায় আগত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনাতন ধর্মালম্বী কলেজ শিক্ষার্থী অমলী হেম্ব্রম ও পাওয়ালিয় হেম্ব্রম বলেন, ছোটবেলা থেকেই নিজ নিজ মায়ের হাত ধরে পহেলা বৈশাখের এই আলু খাওয়া মন্ডপ মেলায় আসা শুরু। মেলায় এসেই মায়েরা প্রথমে মন্দিরে পূর্জা অর্চনা করে মেলা ঘুরাতে বের হতেন। এখন তারা একাই চলে আসের ধর্মীয় অনুভূতিসহ মেলার টানে। বছরে একবার গ্রামের মধ্যে মেলাটি সকলকেই কিছুটা হলেও বিনোদনের খোরাক জোগায়। মেলায় দেখা হয় নতুন ও পুরতন সহতীর্থ শিক্ষার্থী বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে।

মেলায় আসা পার্শ্ববর্তী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ধীরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই এ মেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা শুরু, এখনও প্রতিবছর আসা হয়। এ মেলা কখন থেকে শুরু সে কথা বাবাও বলতে পারেননি। মেলার বয়স দু’শ বছরেরও বেশি।

মেলায় আগত ফুলবাড়ী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাংগঠনিক সম্পাদক হিরেন্দ্র নাথ বর্মন হিরু বলেন, পহেলা বৈশাখে মন্দির চত্বরে মেলায় ঘোরাঘুরির মাধ্যমে মন্দির দর্শন ও পূর্জা অর্চনাও হয়ে যায়, এজন্য প্রতি বছরই পরিবার নিয়ে মেলায় আসা হয়। কিছু সময়ের জন্য হলেও খুব আনন্দ উপভোগ করা যায়। আবার মেলায় আসলে অনেক আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা স্বাক্ষাতও হয়ে যায়।

শিব-কালী-দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শ্রী মহেন্দ্র নাথ সরকার মন্টু বলেন, তার বয়স এখন ৮৪ বছর। তিনিও জানেন না এ মেলা কবে থেকে শুরু হয়েছে। তবে বাপ-দাদার কাছে যে কথা শুনেছেন তাতে এ মেলার বয়স এখন প্রায় দু’শ বছর পার হয়ে গেছে। মন্দিরের পুরনো বট আর পাকড় গাছের বয়স দেখেই বোঝা যায় মেলার বয়স ২০০ বছরেরও বেশি হবে। মেলা দেখতে বিভিন্ন এলাকার সকল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এখন পর্যন্ত এ মেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলসহ গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকেন।