সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ইউনিয়নের একাধিক সদস্য তারা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখত প্রস্তাব দাখিল করে। লিখত অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রকল্প বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি, গুটিকয়েক সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে লিপ্ত। তার অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ‘এক সদস্যের মৃত্যুতে বর্তমানে ১১ জন সদস্য নিয়ে পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৭ জন সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।
তারা হলেন— মো. আমানুল্লাহ, মমতা বেগম, রাজিয়া খাতুন, শামছুন্নাহার, মো. নুরুজ্জামান সিদ্দিকী, আবুল কাশেম ও আব্দুস সামাদ আজাদ। ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউপি সদস্য মো. আমানুল্লাহ বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত তোয়াক্কা না করে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। পরিষদের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “অনাস্থা প্রস্তাবের একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















