সংবাদ শিরোনাম ::
পাসপোর্ট অফিসে এক গ্রাম থেকে ১১২ জন নিয়োগের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী বোরহানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ জুলাইকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক পোস্ট, বিইউবিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত আমির খানের তৃতীয় স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটের সম্পদের পরিমাণ কত? উদ্যোক্তা ও সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণ, গোপালগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত ইসিতে এনআইডির জরুরি সেবা বন্ধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ রাজশাহীতে অফিসেই সংসার পেতেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম মুগদায় ‘কিটুবাজার ডটকম’এর আড়ালে ভেজাল ওষুধের কারখানার সন্ধান গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তথ্য প্রকাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তালিকা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য এম.এ. হান্নান।

পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক মাদক কারবারীদের তালিকা করনেও হয়েছে পরামর্শ।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ সভায় জানান যে, মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে জেলাজুড়ে এলাকা, গ্রাম এবং পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই তালিকায় বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কৌশলী কারণে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকার ভিত্তিতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

ভয়াবহ চিত্র ও মাদকস্পট

সভায় পুলিশ সুপার জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর মাদকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশেই ৬১টি মাদকস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। মাদক পাচার ও বিক্রির এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

এম.এ. হান্নান (এমপি): তিনি বলেন, “নাসিরনগর আগে শান্ত থাকলেও এখন এটিকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে সভা করতে হবে।”

মোবারক হোসাইন আকন্দ (জামায়াত আমির): তিনি মাদক সম্রাটদের গ্রেফতারের পর যাতে সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে আইনি কঠোরতার ওপর জোর দেন।

জহিরুল হক খোকন (বিএনপি সহ-সভাপতি): তিনি বলেন, “কারা মাদক ব্যবসায়ী তা আমরা সবাই জানি। এখন প্রয়োজন সাহসের সাথে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “মাদকের ব্যাপারে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তালিকায় থাকা এবং পর্দার আড়ালে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন কঠোর হবে।”

সভায় জেলার বিচার বিভাগ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাসপোর্ট অফিসে এক গ্রাম থেকে ১১২ জন নিয়োগের অভিযোগ

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তথ্য প্রকাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তালিকা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের।

আপডেট সময় ০৫:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য এম.এ. হান্নান।

পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক মাদক কারবারীদের তালিকা করনেও হয়েছে পরামর্শ।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ সভায় জানান যে, মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে জেলাজুড়ে এলাকা, গ্রাম এবং পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই তালিকায় বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কৌশলী কারণে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকার ভিত্তিতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

ভয়াবহ চিত্র ও মাদকস্পট

সভায় পুলিশ সুপার জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর মাদকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশেই ৬১টি মাদকস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। মাদক পাচার ও বিক্রির এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

এম.এ. হান্নান (এমপি): তিনি বলেন, “নাসিরনগর আগে শান্ত থাকলেও এখন এটিকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে সভা করতে হবে।”

মোবারক হোসাইন আকন্দ (জামায়াত আমির): তিনি মাদক সম্রাটদের গ্রেফতারের পর যাতে সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে আইনি কঠোরতার ওপর জোর দেন।

জহিরুল হক খোকন (বিএনপি সহ-সভাপতি): তিনি বলেন, “কারা মাদক ব্যবসায়ী তা আমরা সবাই জানি। এখন প্রয়োজন সাহসের সাথে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “মাদকের ব্যাপারে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তালিকায় থাকা এবং পর্দার আড়ালে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন কঠোর হবে।”

সভায় জেলার বিচার বিভাগ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।