মৌলভীবাজারের বড়লেখার সাবাজপুর চা-বাগানে টি বোর্ড ও বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই সরকারি টিলা ভূমি থেকে লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি চলছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ারও আশংকা রয়েছে। অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগে শনিবার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও বনবিভাগের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যাপক গাছ কাটার সত্যতা পান। তারা তাৎক্ষণিক ৫ শতাধিক ঘনফুট কাটা গাছ যে অবস্থায় আছে সেভাবে সংরক্ষণ করতে (জব্দ) চা বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, গত দুই মাসে চা বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকন্ঠনগর, বিপিন টিলা, আনডর ও আশপাশের বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় কয়েকশ গাছ কেটে ফেলেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ি ঢালে থাকা বড়বড় গাছ হাতি দিয়ে টেনে নিচে নামিয়ে ট্রাকযোগে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ি ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেছে। কাঠগুলো কেটে বাগান কার্যালয় ও ফ্যাক্টরির আশপাশে রেখে ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে বিভিন্ন স-মিলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বিচারে সরকারি লিজের ভূমির এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে।
অভিযোগে ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বড়লেখা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগানে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বিপুল পরিমাণ গাছ দেখতে পান। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার স্বপক্ষে বনবিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের গাছ কাটার অনুমতির বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শণ করতে পারেনি।
পরে সহকারী কমিশনার নাঈমা নাদিয়া ও বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল মৃধা (সহকারি বন সংরক্ষক), ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বাগানের অফিস সংলগ্ন স্থানে কেটে রাখা ৫০০ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। এসময় সহকারি কমিশনার ভূমি রোববার পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে টিলার বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা অন্যান্য গাছগুলোসহ বাগান কার্যালয়, ফ্যাক্টরী ও রাস্তার পাশে পাওয়া গাছসহ অনুমোদন ছাড়া কাটা সকল গাছের পরিমাণ নির্ধারণ করতে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পান। যা চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই চা-বাগান কেটেছে। আপাতত গাছগুলো যে অবস্থায় আছে, সেভাবেই সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার গিয়ে বাগানের ভেতরে থাকা সব কাটা গাছের পরিমাপ করে (মেজারমেন্ট) প্রতিবেদন দিতে বনবিভাগকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, পাথমিকভাবে জানা গেছে, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথম দিন বিধিবর্হিভুতভাবে কাটা প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ পাওয়া যায়। রোববার বাগানের ভেতরে গিয়ে ১৩০টি গাছের মোতা ও কেটে রাখা আরো ২ শতাধিক ঘনফুটসহ ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছেন। মাপযোগ এখনও চূড়ান্ত করেননি। মেজারমেন্টের শেষে প্রতিবেদন জমা দিবেন।
আজাদ বাহার জামালী, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 






















