সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাইকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক পোস্ট, বিইউবিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত আমির খানের তৃতীয় স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটের সম্পদের পরিমাণ কত? উদ্যোক্তা ও সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণ, গোপালগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত ইসিতে এনআইডির জরুরি সেবা বন্ধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ রাজশাহীতে অফিসেই সংসার পেতেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম মুগদায় ‘কিটুবাজার ডটকম’এর আড়ালে ভেজাল ওষুধের কারখানার সন্ধান গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের স্বপ্ন লুটে ৩০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ দেশ ছাড়ছেন দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামি মামুন

মুগদায় ‘কিটুবাজার ডটকম’এর আড়ালে ভেজাল ওষুধের কারখানার সন্ধান

রাজধানীর মুগদা এলাকায় একটি বসতবাড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ ও ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানার তথ্য ফাঁস করায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক সংবাদকর্মীসহ চারজন। কারখানা মালিকের দায়ের করা মিথ্যা ‘ডাকাতি’ মামলায় দীর্ঘ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে ওই সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। মূলত জালিয়াতির খবর ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই সাজানো মামলা করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুগদা থানার কমিশনার গলি এলাকার একটি বাড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে ‘kitubazar.com’ নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি। তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও ক্ষতিকর কাঁচামাল সংগ্রহ করে কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই তৈরি করতেন ‘শক্তি প্লাস’ নামক তথাকথিত যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধ। ঘরের ভেতরেই সাধারণ প্রিন্টার ও ল্যামিনেশন মেশিনের সাহায্যে ভুয়া স্টিকার ও মোড়ক তৈরি করে তা বাজারজাত করা হতো। এসব ওষুধ বেতনভুক্ত বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করার পাশাপাশি অনলাইনেও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া তৈরি এসব ওষুধ সেবনে কিডনি, লিভার ও হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতিসহ প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে হাসান মাতাব্বর নামে এক পাওনাদার কারখানাটির মালিক আব্দুর রহিমের এই ভয়ংকর জালিয়াতির তথ্য বাড়ির মালিক ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী কারখানার সামনে বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় আব্দুর রহিম জনগণের মুখোমুখি হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং রাতেই গোপনে কারখানা গুটিয়ে পালিয়ে যান। পরদিন গণমাধ্যমকর্মী মো. ইদি আমিন এপোলো একটি জাতীয় দৈনিকে “মুগদা পাড়ায় ভেজাল ওষুধ কারখানার সন্ধান” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়।

জালিয়াতির খবর প্রকাশ ও প্রচার হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পালিয়ে যাওয়া আব্দুর রহিম। জালিয়াতি আড়াল করতে তিনি এক অভিনব ও ভয়ংকর কৌশল অবলম্বন করেন। ঘটনার দুই দিন পর তিনি পাওনাদার হাসান মাতাব্বর, বাড়িওয়ালার মেয়ের জামাই, পাশের একটি ডেভলপার বিল্ডিংয়ের ম্যানেজার এবং সাংবাদিক ইদি আমিন এপোলোর নামে মুগদা থানায় একটি মিথ্যা ‘ডাকাতি’ মামলা দায়ের করেন। এই সাজানো মামলার গেরাকলে পড়ে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ দিন কারাবাস করেন, যা স্থানীয় সচেতন মহলে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩’-এর ১৪ (২) ধারা অনুযায়ী, যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া ইন্টারনেটে ওষুধ প্রদর্শন, মজুত বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অপরাধী চক্রটি আইনের অপব্যবহার করে সৎ ও সাহসী পেশাদারদের হেনস্তা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে প্রকৃত অপরাধী আব্দুর রহিম ও তাঁর সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এমন ঘটনা ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী সিন্ডিকেটগুলোকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক পোস্ট, বিইউবিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

মুগদায় ‘কিটুবাজার ডটকম’এর আড়ালে ভেজাল ওষুধের কারখানার সন্ধান

আপডেট সময় ০১:৪১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মুগদা এলাকায় একটি বসতবাড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ ও ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানার তথ্য ফাঁস করায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক সংবাদকর্মীসহ চারজন। কারখানা মালিকের দায়ের করা মিথ্যা ‘ডাকাতি’ মামলায় দীর্ঘ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে ওই সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। মূলত জালিয়াতির খবর ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই সাজানো মামলা করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুগদা থানার কমিশনার গলি এলাকার একটি বাড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে ‘kitubazar.com’ নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি। তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও ক্ষতিকর কাঁচামাল সংগ্রহ করে কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই তৈরি করতেন ‘শক্তি প্লাস’ নামক তথাকথিত যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধ। ঘরের ভেতরেই সাধারণ প্রিন্টার ও ল্যামিনেশন মেশিনের সাহায্যে ভুয়া স্টিকার ও মোড়ক তৈরি করে তা বাজারজাত করা হতো। এসব ওষুধ বেতনভুক্ত বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করার পাশাপাশি অনলাইনেও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া তৈরি এসব ওষুধ সেবনে কিডনি, লিভার ও হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতিসহ প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে হাসান মাতাব্বর নামে এক পাওনাদার কারখানাটির মালিক আব্দুর রহিমের এই ভয়ংকর জালিয়াতির তথ্য বাড়ির মালিক ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী কারখানার সামনে বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় আব্দুর রহিম জনগণের মুখোমুখি হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং রাতেই গোপনে কারখানা গুটিয়ে পালিয়ে যান। পরদিন গণমাধ্যমকর্মী মো. ইদি আমিন এপোলো একটি জাতীয় দৈনিকে “মুগদা পাড়ায় ভেজাল ওষুধ কারখানার সন্ধান” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়।

জালিয়াতির খবর প্রকাশ ও প্রচার হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পালিয়ে যাওয়া আব্দুর রহিম। জালিয়াতি আড়াল করতে তিনি এক অভিনব ও ভয়ংকর কৌশল অবলম্বন করেন। ঘটনার দুই দিন পর তিনি পাওনাদার হাসান মাতাব্বর, বাড়িওয়ালার মেয়ের জামাই, পাশের একটি ডেভলপার বিল্ডিংয়ের ম্যানেজার এবং সাংবাদিক ইদি আমিন এপোলোর নামে মুগদা থানায় একটি মিথ্যা ‘ডাকাতি’ মামলা দায়ের করেন। এই সাজানো মামলার গেরাকলে পড়ে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ দিন কারাবাস করেন, যা স্থানীয় সচেতন মহলে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩’-এর ১৪ (২) ধারা অনুযায়ী, যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া ইন্টারনেটে ওষুধ প্রদর্শন, মজুত বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অপরাধী চক্রটি আইনের অপব্যবহার করে সৎ ও সাহসী পেশাদারদের হেনস্তা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে প্রকৃত অপরাধী আব্দুর রহিম ও তাঁর সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এমন ঘটনা ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী সিন্ডিকেটগুলোকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে।