ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের ‘প্রস্তর যুগে’ আটকে আছেন ট্রাম্প : ইরান সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, জানালেন সহমর্মিতা কক্সবাজারে নকল বিদেশি মদ তৈরির কারখানা, আটক ১ লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল: সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০, শহরে থমথমে পরিস্থিতি ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ বাস কাউন্টার সরাতে হবে : ডিএমপি ভারতে পাচারের সময় শিশুসহ ৮ জন উদ্ধার মহেশখালীতে প্রথম দিনে ৪,২৩০ শিশুকে হাম টিকা, জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে জোর প্রচারণা পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ক্যাশলেস ব্যাংকিং সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সীমান্তেবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ইদানিং চোরাকারবারিরা তৎপর হয়ে উঠেছে ভারতীয় ০৪টি মহিষ আটক।

প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর-দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারীর সঙ্গে কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা আটক করেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী মাসকরা গ্রাম থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় স্থানীয়রা লাঠিসোঁঠা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে সোনাপুর গ্রামের আফতাবুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এর জেরে শনিবার বিকেলে সোনাপুরের লোকজন একত্রিত হয়ে মাসকরা গ্রামে হামলা করে দুইটি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে তাদের ৪টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। শুনেছি প্রেমঘটিত বিষয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের

প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় ০৫:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর-দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারীর সঙ্গে কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা আটক করেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী মাসকরা গ্রাম থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় স্থানীয়রা লাঠিসোঁঠা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে সোনাপুর গ্রামের আফতাবুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এর জেরে শনিবার বিকেলে সোনাপুরের লোকজন একত্রিত হয়ে মাসকরা গ্রামে হামলা করে দুইটি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে তাদের ৪টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। শুনেছি প্রেমঘটিত বিষয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।