ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি দর্শক ফেরাতে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন পিসিবি প্রধান রাজশাহীর মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, মানববন্ধনে ক্ষোভ হাম উপসর্গে বরিশালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার গুঞ্জন ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী বদলি: এলাকায় স্বস্তি, তদন্তের দাবি পটুয়াখালীতে সংস্কার কাজে অনিয়ম, ঝুঁকিতে গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ রেল টেন্ডারে কারসাজি: প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা ইবাদত করেন যেখানে

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর বুকে পবিত্র কাবা ঘর যেমন মহান আল্লাহর ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি সপ্তম আসমানে ফেরেশতাদের ইবাদতের জন্য রয়েছে একটি পবিত্র ঘর। ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলা হয় বাইতুল মামুর বা আবাদ করা ঘর। সপ্তম আসমানে কাবা শরীফের ঠিক বরাবর উপরে অবস্থিত এই পবিত্র ঘরটি মূলত ফেরেশতাদের কাবা। এর ঠিক উপরেই রয়েছে মহান আল্লাহর আরশ।

পবিত্র কোরআনের সূরা তুরে এই সম্মানিত ঘরটির শপথ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, শপথ বাইতুল মামুরের (আসমানি ঘর যা কাবার সদৃশ এবং ফেরেশতাদের দ্বারা সদাসর্বদা পরিবেষ্টিত)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রজনীতে যখন সপ্তম আসমানে পৌঁছান, তখন তাকে এই পবিত্র ঘরটি দেখানো হয়। বুখারি ও মুসলিম শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিবরাঈল (আ.) নবীজিকে জানান, এটিই হলো বাইতুল মামুর। এখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং একবার বের হয়ে গেলে তারা আর কোনোদিন সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭০ হাজার করে নতুন ফেরেশতার একটি দল সেখানে ইবাদত করতে আসে। এটি আমাদের সামনে ফেরেশতাদের বিশাল সংখ্যার একটি ধারণা দেয়, যা পৃথিবীর মানুষের তুলনায় অগণিত।

মিরাজের সেই দীর্ঘ হাদিসে বলা হয়েছে, বাইতুল মামুর দেখার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দুটি পাত্র আনা হয়। একটি ছিল মদের এবং অন্যটি দুধের। নবীজি (সা.) দুধের পাত্রটি বেছে নিলে জিবরাঈল (আ.) বলেন, আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আল্লাহ আপনার উম্মতকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। এরপরই উম্মতের জন্য প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল, যা পরে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়।

বলা হয়ে থাকে, কিয়ামত পর্যন্ত এই চক্র চলতেই থাকবে। ফেরেশতাদের প্রতিটি দল ইবাদত শেষ করে আসমানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সেখানে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকেন।

বাইতুল মামুরের এই বর্ণনা আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। এটি প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর আমাদের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং অবিরাম ইবাদতের জন্য তার অগণিত ফেরেশতা বাহিনী রয়েছে। আমাদের নিজেদের কল্যাণ, পরকালের মুক্তি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতেই আমাদের ইবাদত করা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালার দয়া ছাড়া এই দুনিয়া বা পরকালে সফলতা পাওয়া অসম্ভব—এই সত্যটিই ফুটে ওঠে বাইতুল মামুরের মাহাত্ম্যের মাঝে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি

প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা ইবাদত করেন যেখানে

আপডেট সময় ০৪:৩০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

পৃথিবীর বুকে পবিত্র কাবা ঘর যেমন মহান আল্লাহর ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি সপ্তম আসমানে ফেরেশতাদের ইবাদতের জন্য রয়েছে একটি পবিত্র ঘর। ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলা হয় বাইতুল মামুর বা আবাদ করা ঘর। সপ্তম আসমানে কাবা শরীফের ঠিক বরাবর উপরে অবস্থিত এই পবিত্র ঘরটি মূলত ফেরেশতাদের কাবা। এর ঠিক উপরেই রয়েছে মহান আল্লাহর আরশ।

পবিত্র কোরআনের সূরা তুরে এই সম্মানিত ঘরটির শপথ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, শপথ বাইতুল মামুরের (আসমানি ঘর যা কাবার সদৃশ এবং ফেরেশতাদের দ্বারা সদাসর্বদা পরিবেষ্টিত)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রজনীতে যখন সপ্তম আসমানে পৌঁছান, তখন তাকে এই পবিত্র ঘরটি দেখানো হয়। বুখারি ও মুসলিম শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিবরাঈল (আ.) নবীজিকে জানান, এটিই হলো বাইতুল মামুর। এখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং একবার বের হয়ে গেলে তারা আর কোনোদিন সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭০ হাজার করে নতুন ফেরেশতার একটি দল সেখানে ইবাদত করতে আসে। এটি আমাদের সামনে ফেরেশতাদের বিশাল সংখ্যার একটি ধারণা দেয়, যা পৃথিবীর মানুষের তুলনায় অগণিত।

মিরাজের সেই দীর্ঘ হাদিসে বলা হয়েছে, বাইতুল মামুর দেখার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দুটি পাত্র আনা হয়। একটি ছিল মদের এবং অন্যটি দুধের। নবীজি (সা.) দুধের পাত্রটি বেছে নিলে জিবরাঈল (আ.) বলেন, আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আল্লাহ আপনার উম্মতকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। এরপরই উম্মতের জন্য প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল, যা পরে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়।

বলা হয়ে থাকে, কিয়ামত পর্যন্ত এই চক্র চলতেই থাকবে। ফেরেশতাদের প্রতিটি দল ইবাদত শেষ করে আসমানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সেখানে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকেন।

বাইতুল মামুরের এই বর্ণনা আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। এটি প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর আমাদের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং অবিরাম ইবাদতের জন্য তার অগণিত ফেরেশতা বাহিনী রয়েছে। আমাদের নিজেদের কল্যাণ, পরকালের মুক্তি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতেই আমাদের ইবাদত করা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালার দয়া ছাড়া এই দুনিয়া বা পরকালে সফলতা পাওয়া অসম্ভব—এই সত্যটিই ফুটে ওঠে বাইতুল মামুরের মাহাত্ম্যের মাঝে।