ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভূমধ্যসাগরে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি শুটিংয়েও ক্যাচ ফেললেন বাবর! ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলার শঙ্কা, যেভাবে শুরু হতে পারে আক্রমণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে  মজুদ রাখায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায়।  যুদ্ধের প্রভাবঃ তেল সংকটে মহেশখালী – কক্সবাজার নৌ রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধের আশঙ্কা রামপাল প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে অনিয়মের পাহাড়: উপ-পরিচালক ডা. তউহিদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভাঙ্গায় অটোচালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই অভিযোগে দেশীয়অস্ত্র সহ ৩ছিনতাইকারী গ্রেফতার  ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিন্ডিকেটে জিম্মি রোগীরা নওগাঁয় ফসলি জমিতে গম কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

যুদ্ধের প্রভাবঃ তেল সংকটে মহেশখালী – কক্সবাজার নৌ রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধের আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিপর্যস্ত নৌ-যাতায়াত
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের উপকূলীয় জনপদ মহেশখালী ও কক্সবাজারে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে স্পিডবোট চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী থেকে কক্সবাজার যাতায়াতের অন্যতম দ্রুত মাধ্যম স্পিডবোট। প্রতিদিন শত শত মানুষ কর্মস্থল, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে এই নৌপথ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে স্পিডবোট পরিচালনা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক মালিক ইতোমধ্যে সীমিত আকারে বোট চালাচ্ছেন, কেউ কেউ বন্ধ রাখার কথাও ভাবছেন।
স্পিডবোট মালিক সমিতির সদস্যরা জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলে একটি ট্রিপ পরিচালনা সম্ভব ছিল, এখন সেই খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। তাছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় দূরবর্তী এলাকা থেকে বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
বোটেী মালিকরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিডবোট চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি ভাড়া বাড়াই, যাত্রীরা কষ্টে পড়বে; আর না বাড়ালে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। তাই অনেকেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে তাদের জন্য বিকল্প কোনো দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, চাকরি বা ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন।
এক যাত্রী জানান, আমরা প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করি। স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়বে, যার ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নৌযান খাতে ভর্তুকি বা বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

যুদ্ধের প্রভাবঃ তেল সংকটে মহেশখালী – কক্সবাজার নৌ রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধের আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৮:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিপর্যস্ত নৌ-যাতায়াত
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের উপকূলীয় জনপদ মহেশখালী ও কক্সবাজারে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে স্পিডবোট চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী থেকে কক্সবাজার যাতায়াতের অন্যতম দ্রুত মাধ্যম স্পিডবোট। প্রতিদিন শত শত মানুষ কর্মস্থল, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে এই নৌপথ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে স্পিডবোট পরিচালনা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক মালিক ইতোমধ্যে সীমিত আকারে বোট চালাচ্ছেন, কেউ কেউ বন্ধ রাখার কথাও ভাবছেন।
স্পিডবোট মালিক সমিতির সদস্যরা জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলে একটি ট্রিপ পরিচালনা সম্ভব ছিল, এখন সেই খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। তাছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় দূরবর্তী এলাকা থেকে বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
বোটেী মালিকরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিডবোট চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি ভাড়া বাড়াই, যাত্রীরা কষ্টে পড়বে; আর না বাড়ালে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। তাই অনেকেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে তাদের জন্য বিকল্প কোনো দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, চাকরি বা ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন।
এক যাত্রী জানান, আমরা প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করি। স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়বে, যার ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নৌযান খাতে ভর্তুকি বা বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।