ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিন্ডিকেটে জিম্মি রোগীরা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সসেবা নিয়ে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সামনে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ফেলে রেখে চালক মো. মানিক বেশির ভাগ সময় বাসায় বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে জানা গেছে। ফলে হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত মুমূর্ষু রোগীরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তি বিশেষের বেসরকারীভাবে পরিচালিত (প্রাইভেট) অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে সুবিধা করে দিতেই সুকৌশলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক খেয়ালখুশিমতো অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেন।

দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলায় বারাইহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রংপুর সদরের বাসিন্দা সুভাস চন্দ্র (৫০) ও ফুলবাড়ী পৌরশহরের সুজাপুরের দীপেন চন্দ্র (৪০) গুরুতর আহতন হন। সোয়া ৬টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদেরকে দিনাজপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। একইভাবে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় উত্তর সুজাপুর গ্রামের হাফিজা বেগমকে (৩২)। তারও অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকেও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ সময় স্বজনরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চালক মো. মানিককে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর তিনি ফোন ধরে জানান, রোগী নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন, আসতে ঘণ্টা খানেক সময় লাগবে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করেই ব্যক্তি মালিকানাধিন পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নিজ নিজ রোগীকে নিয়ে রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গমন করেন।

ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও বাড়তি টাকা দিয়ে প্রাইভেট গাড়ি নিতে হবে কেন?  এটা পরিকল্পিত হয়রানি।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওইদিন ওই সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসের বাসাতেই ছিলেন। রোগী বহন না করার অজুহাতে এমন মিথ্যাচার করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি কিছুক্ষণের জন্য বাসায় বিশ্রামে গিয়েছিলেন। ওই অবস্থায় রোগীকে নিয়ে গেলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল তাই তিনি রোগী বহন করেননি। বেশ কিছুদিন থেকে তার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, কিছুদিন আগে অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক স্ট্রোক করেছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না এবং গাড়ি চালানোর মতো তার শারীরিক ফিটনেশ নেই বললেই চলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় তাকে দিয়েই অ্যাম্বুলেন্স চালাতে হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিন্ডিকেটে জিম্মি রোগীরা

আপডেট সময় ০৫:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সসেবা নিয়ে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সামনে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ফেলে রেখে চালক মো. মানিক বেশির ভাগ সময় বাসায় বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে জানা গেছে। ফলে হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত মুমূর্ষু রোগীরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তি বিশেষের বেসরকারীভাবে পরিচালিত (প্রাইভেট) অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে সুবিধা করে দিতেই সুকৌশলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক খেয়ালখুশিমতো অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেন।

দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলায় বারাইহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রংপুর সদরের বাসিন্দা সুভাস চন্দ্র (৫০) ও ফুলবাড়ী পৌরশহরের সুজাপুরের দীপেন চন্দ্র (৪০) গুরুতর আহতন হন। সোয়া ৬টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদেরকে দিনাজপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। একইভাবে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় উত্তর সুজাপুর গ্রামের হাফিজা বেগমকে (৩২)। তারও অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকেও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ সময় স্বজনরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চালক মো. মানিককে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর তিনি ফোন ধরে জানান, রোগী নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন, আসতে ঘণ্টা খানেক সময় লাগবে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করেই ব্যক্তি মালিকানাধিন পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নিজ নিজ রোগীকে নিয়ে রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গমন করেন।

ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও বাড়তি টাকা দিয়ে প্রাইভেট গাড়ি নিতে হবে কেন?  এটা পরিকল্পিত হয়রানি।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওইদিন ওই সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসের বাসাতেই ছিলেন। রোগী বহন না করার অজুহাতে এমন মিথ্যাচার করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি কিছুক্ষণের জন্য বাসায় বিশ্রামে গিয়েছিলেন। ওই অবস্থায় রোগীকে নিয়ে গেলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল তাই তিনি রোগী বহন করেননি। বেশ কিছুদিন থেকে তার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, কিছুদিন আগে অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক স্ট্রোক করেছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না এবং গাড়ি চালানোর মতো তার শারীরিক ফিটনেশ নেই বললেই চলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মানিক শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় তাকে দিয়েই অ্যাম্বুলেন্স চালাতে হচ্ছে।