ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি ঢাবিতে ৯ ককটেল বিস্ফোরণ: আটক তিনজনের পরিচয় জানা গেল দুর্নীতিতে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতিগুলো: রাষ্ট্রপতি সরকারি ওষুধ কেনা-বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, রাজস্থলী হাসপাতালে দুদকের অভিযান এলজিইডির উদ্যোগে পঞ্চগড়ে তিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন আ.লীগের ফিরে আসা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী দীপকের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা নিয়ে ক্ষোভ, ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফ্লাইওভার থেকে পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা

দেশীয় ছত্রাক থেকে জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবনে বাকৃবির উদ্যোগ

​কৃষিতে রাসায়নিক বালাইনাশকের অতি ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) তৈরির ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘একাডেমিয়া–শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য দেশীয় কীটরোগকারী ছত্রাক (এপিএফ) ভিত্তিক বাণিজ্যিক জৈব বালাইনাশক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

​হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশনের (HEAT) আওতায় একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (এটিএফ) প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল দেশীয় ছত্রাক ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পর্যায়ে জৈব বালাইনাশক তৈরির পথ প্রশস্ত করা। প্রকল্পটি ৩ বছর মেয়াদী।

​কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘কৃষিখাত নিয়ে আমার দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই কৃষক ও কৃষির সংকটগুলো আমি গভীরভাবে অনুভব করি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যেন গবেষণাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও বাণিজ্যিকীকরণ সফল হলে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও র‍্যাংকিং বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প ও একাডেমিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে লাল তীর সিড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে আসাই এই প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একটি টেস্টিং ল্যাব রয়েছে, যেখানে প্রথমে পণ্যটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এরপর বাজারে ছাড়ার আগে অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য এটি বাহ্যিক পরীক্ষাগারেও পাঠানো হবে।

​মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘বাজারে নেওয়ার আগে পণ্যটি কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর কি না তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে আমাদের টিম সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে। কোন উপাদান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সবজিতে এর ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে, যাতে এর কার্যকারিতা সঠিকভাবে যাচাই করা যায়।’

​প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদারের উপস্থাপনায় কর্মশালায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় ‘এন্টোমোপ্যাথোজেনিক ছত্রাক’ (এপিএফ)-এর কার্যকর স্ট্রেইন শনাক্ত, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য জৈব বালাইনাশক উৎপাদন করা। এর ফলে একদিকে যেমন নিরাপদ সবজি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রাণী দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমীর হোসেন।

​কর্মশালায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক গবেষণার সাথে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধনের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই কেবল কৃষকদের হাতের নাগালে এমন সাশ্রয়ী ও কার্যকর জৈব বালাইনাশক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই উদ্ভাবন সফল হলে বাংলাদেশের কৃষিতে তা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত গবেষকরা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি

দেশীয় ছত্রাক থেকে জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবনে বাকৃবির উদ্যোগ

আপডেট সময় ০২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

​কৃষিতে রাসায়নিক বালাইনাশকের অতি ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) তৈরির ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘একাডেমিয়া–শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য দেশীয় কীটরোগকারী ছত্রাক (এপিএফ) ভিত্তিক বাণিজ্যিক জৈব বালাইনাশক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

​হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশনের (HEAT) আওতায় একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (এটিএফ) প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল দেশীয় ছত্রাক ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পর্যায়ে জৈব বালাইনাশক তৈরির পথ প্রশস্ত করা। প্রকল্পটি ৩ বছর মেয়াদী।

​কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘কৃষিখাত নিয়ে আমার দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই কৃষক ও কৃষির সংকটগুলো আমি গভীরভাবে অনুভব করি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যেন গবেষণাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও বাণিজ্যিকীকরণ সফল হলে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও র‍্যাংকিং বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প ও একাডেমিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে লাল তীর সিড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে আসাই এই প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একটি টেস্টিং ল্যাব রয়েছে, যেখানে প্রথমে পণ্যটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এরপর বাজারে ছাড়ার আগে অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য এটি বাহ্যিক পরীক্ষাগারেও পাঠানো হবে।

​মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘বাজারে নেওয়ার আগে পণ্যটি কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর কি না তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে আমাদের টিম সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে। কোন উপাদান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সবজিতে এর ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে, যাতে এর কার্যকারিতা সঠিকভাবে যাচাই করা যায়।’

​প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদারের উপস্থাপনায় কর্মশালায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় ‘এন্টোমোপ্যাথোজেনিক ছত্রাক’ (এপিএফ)-এর কার্যকর স্ট্রেইন শনাক্ত, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য জৈব বালাইনাশক উৎপাদন করা। এর ফলে একদিকে যেমন নিরাপদ সবজি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রাণী দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমীর হোসেন।

​কর্মশালায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক গবেষণার সাথে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধনের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই কেবল কৃষকদের হাতের নাগালে এমন সাশ্রয়ী ও কার্যকর জৈব বালাইনাশক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই উদ্ভাবন সফল হলে বাংলাদেশের কৃষিতে তা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত গবেষকরা।