ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (০৮) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

ইউনানী আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আগড্যাব) এর আয়োজন করে।
কর্মশালায় এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য নয়; বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদেরও যথাযথ মূল্যায়ন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ খাতের প্রসারে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা অনেক ক্ষেত্রে বজায় থাকেনি। হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যায় রয়েছেন। এসব সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করে বলেই এসব বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু চিকিৎসকদের দিয়ে পরিচালিত হয় না। এর জন্য নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট, রেডিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।’

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। আর বিশেষায়িত চিকিৎসায় যাদের অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে তারা ব্যয় বহন করবেন, আর যাদের সামর্থ্য নেই তাদের চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়, সেটিই সরকারের অঙ্গীকার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণেই চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।’

এ জেড এম জাহিদ বলেন, ‘কাজ করে কেউ বেতন পাবেন না, এটা হতে পারে না। ইসলামও বলে, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। তাই যারা কাজ করছেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে এসব চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে এবং স্বনিয়োজিত চিকিৎসকদের মাধ্যমে কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘হামদর্দের মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতির মানোন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার করতে হবে।’

প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উত্তর সিটি কেোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ সেবা রাখার দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (০৮) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

ইউনানী আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আগড্যাব) এর আয়োজন করে।
কর্মশালায় এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য নয়; বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদেরও যথাযথ মূল্যায়ন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ খাতের প্রসারে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা অনেক ক্ষেত্রে বজায় থাকেনি। হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যায় রয়েছেন। এসব সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করে বলেই এসব বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু চিকিৎসকদের দিয়ে পরিচালিত হয় না। এর জন্য নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট, রেডিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।’

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। আর বিশেষায়িত চিকিৎসায় যাদের অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে তারা ব্যয় বহন করবেন, আর যাদের সামর্থ্য নেই তাদের চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়, সেটিই সরকারের অঙ্গীকার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণেই চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।’

এ জেড এম জাহিদ বলেন, ‘কাজ করে কেউ বেতন পাবেন না, এটা হতে পারে না। ইসলামও বলে, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। তাই যারা কাজ করছেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে এসব চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে এবং স্বনিয়োজিত চিকিৎসকদের মাধ্যমে কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘হামদর্দের মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতির মানোন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার করতে হবে।’

প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উত্তর সিটি কেোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ সেবা রাখার দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন।