ব্রাজিল ফুটবল দল তাদের নান্দনিক খেলোয়াড়ি কৌশল এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাসের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হলেও, আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক ফুটবলপ্রেমী এখন দলটির অন্ধ সমর্থন থেকে দূরে থাকছেন। একসময়ের মনকাড়া ‘জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের ঐতিহ্য হারিয়ে ব্রাজিল এখন অনেক বেশি ফলাফল-সর্বস্ব ও রক্ষণাত্মক ফুটবলের দিকে ঝুঁকেছে, যা সাধারণ দর্শকদের বিনোদিত করতে পারছে না।
এর সাথে যোগ হয়েছে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের বিশ্বকাপ খরা। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ের বৈশ্বিক আসরগুলোর নকআউট পর্ব থেকে বারবার বিদায় নেওয়া এবং দলে অতিরিক্ত মেজাজ ও শৃঙ্খলার অভাব ভক্তদের হতাশ করছে। আধুনিক ফুটবলে জার্মানি, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো ইউরোপীয় দলগুলোর ট্যাকটিক্যাল ও শারীরিক শক্তির আধিপত্যের কাছে লাতিন আমেরিকার ফুটবল শৈলী কিছুটা মার খাচ্ছে। এছাড়া ব্রাজিল দল হিসেবে খেলার চেয়ে একক কোনো বড় তারকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে ফেলে, যা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে পুরো দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক হার বা ‘সেভেন আপ’ ট্রমা এখনো ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় একটি মানসিক ধাক্কা। এই লজ্জা ও প্রতিপক্ষের ট্রলের ভয়ে অনেকেই এখন দলটিকে সমর্থন করতে ইতস্তত বোধ করেন। তাছাড়া বর্তমানে আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল বা জাপানের মতো দলগুলো অত্যন্ত সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের নতুন দল বেছে নিতে উৎসাহিত করছে।
তবে ব্রাজিল সমর্থকদের দাবি ভিন্ন। সব ট্রল আর হাসি-ঠাট্টাকে উড়িয়ে দিয়ে তারা মাঠের অর্জন অর্থাৎ তাদের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার গৌরবকেই সামনে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এই দ্বৈরথ নতুন নয়। পতাকার দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা, জার্সি মিছিল, কিংবা সেভেন আপ উপহার দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এদেশের ফুটবল উৎসবেরই অংশ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও খুনসুটি যেন সবসময় মাঠের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ না নেয়।
ক্রীড়া ডেস্ক 























