দেশের পর্যটন খাতের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন। ফলে পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পর্যটকদের যেকোনো ধরনের হয়রানি, প্রতারণা বা অপরাধ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সৈকত দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ।
এদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকত দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ স্পা ও আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এসব অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ট্যুরিস্ট পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্ট অসাধু চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই চক্র বিভিন্নভাবে তদবির ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাদক নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টিকটকার লায়লা নামের কিছু ব্যবহারকারীসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অসাধু চক্র যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বলেও তারা মনে করেন। তবে যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা জানান আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা ভিক্তিহীন এবং তিনি অপরাধীদের বিরুদ্বে অভিযান চলামান রাখায় একটি সিন্ডিকেট এই ধরনের প্রবাকান্ডা ছাড়াচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং প্রচলিত আইনে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার বা মানহানিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সেটিও আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















