হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ নুরুল খোদার বিরুদ্ধে টুইন পিট ল্যাট্রিনের নামে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অভিযোগ পাওয়া গেছে, সংবাদ প্রকাশ রোধ করতে তিনি প্রতিবেদকের কাছে তদবির ও ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাসটেক মোহাম্মদপুর গ্রামে টুইন পিট ল্যাট্রিনের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়। ভুক্তভোগীদের দেওয়া ভিডিও সাক্ষ্য প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
ভিডিওতে মোহাম্মদপুর গ্রামের ভুক্তভোগী শারমিন বেগম, সাজেরা বিবি, ফুলেমা বেগম ও সাবেদা বেগম অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য সৈয়দ নুরুল খোদা এবং তার সহযোগী আশিক মিয়া ল্যাট্রিন বিতরণের সময় জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তাদের কাছে ল্যাট্রিনের ১০টি রিং ও স্ল্যাব হস্তান্তর করা হয়। তবে তা এখনও মাটির নিচে বসানো হয়নি এবং ল্যাট্রিন ঘরও নির্মাণ করা হয়নি।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্যের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মোট ৩৬টা টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে আমার ভাটে ছিল মাত্র বারোটা আমি যাদেরকে দিয়েছি তাদের কাছ থেকে এক টাকাও ঘুষ গ্রহণ করিনি। চাইলে আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন। বাকিগুলোর বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ প্রকাশ রোধ করতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির শুরু করেন।
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল আলম ভূঞা বলেন, “ইউপি সদস্যের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে টুইন পিট ল্যাট্রিনের গুণগত মান নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, “ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় ভুক্তভোগী, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















