ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যে কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সি পরতে বাধ্য হচ্ছে আর্জেন্টিনা চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য সব বোর্ডে চলবে এইচএসসি পরীক্ষা : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ব্রুনাই শ্রমবাজারে হাইকমিশনার নওরিন আহসানকে ঘিরে বিতর্ক জুলাইয়ের ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ বিয়েবাড়িতে খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় তুমুল মারামারি নেপালে আবার কেন জেন-জি বিক্ষোভ, নেপথ্যে কী? আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে সমর্থন ট্রাম্প প্রশাসনের! রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী ভোলায় সমাজসেবা প্রশিক্ষণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

কুষ্টিয়া পৌরসভার নাগরিক সমস্যা সমাধানে এক সপ্তাহের সময় দিলেন আমির হামজা

‘আমরা পৌরবাসীর কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সাত দিনের ভেতরে যেগুলো করা সম্ভব সেগুলো সাত দিনেই করতে হবে, আটদিনে যেন না যায়। আর বাকি যেগুলো লং প্রসেস আছে সেগুলো তো আর ৭ দিনের ভেতরে কাজ সম্পন্ন করে নিয়ে আসা সম্ভব না। সেগুলোতে আরও ১৫ দিন, ২০ দিন, ১ মাস, যা লাগবে সময় যেটা লাগবে দেওয়া লাগবে।’

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পৌর অডিটরিয়ামে পৌরসভায় নাগরিক সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা পৌর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

এ সময় নাগরিকরা যানজট, পানি সমস্যা, মশা, আবর্জনা মুক্তকরণ, সড়ক ও ড্রেনেজসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যার কথা শুনে পৌর কর্মকর্তাদের নোট করে নিয়ে সমাধানে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন সংসদ সদস্য আমির হামজা।

এ সময় আমির হামজা বলেন, আমার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি। সেখানকার আশপাশের বাড়ি থেকে এসে ড্রেনের ভেতরে ময়লা ফেলে। তারা ময়লার গাড়িতে ময়লা দিতে চায় না। টাকা দেওয়া লাগবে এই কারণে।

তিনি আরও বলেন, এসবের কারণেই ড্রেনে ময়লা জমে জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। এদের ওপরে আইন প্রয়োগ করা লাগবে। পৌর কর্তৃপক্ষ অথবা প্রশাসন যারা আছেন। পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলবো। বাসিন্দারা যেন ড্রেনে ময়লা ফেলতে না পারে। প্রয়োজনে জরিমানা করবে, শাস্তি দেবে।

আমির হামজা বলেন, বিশেষ করে ফুটপাতে দোকান করে বেচাকেনা বন্ধ করা। সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কন্ট্রোলে আনা। ঈদ হোক আর যাই হোক। আশা করছি শহর ভালো হবে। কুষ্টিয়া পৌরসভার ভেতরে ৪ নং, ৫ নং ও ১০ নং ওয়ার্ডে বেশি সমস্যা। অন্যান্য ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গাতেও আছে। তবে এগুলো একটু বেশি সমস্যা। আমরা কেবল একটাতে হাত দিয়েছি, বাকিগুলোতে পর্যায়ক্রমে হাত দেবো।

তিনি আফসোস করে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা সরকার গঠন করে যদি জায়গায় থাকতে পারতাম তাহলে অ্যাকশনটা আরও বেশি নিতে পারতাম। বিরোধীতে আছি, হয়তো অ্যাকশন বেশি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আমির হামজা বলেন, আমাদের কিছু বন্ধুরা আমার বিপক্ষে থাকছে। তারা ওপরে ওপরে আমাকে বলে আমরা আছি, সাহায্যের জন্য পেছনে আছি। ভালো কাজের জন্য আমরা সাহায্য করবো, সহযোগিতা করবো। কিন্তু পেছনে গিয়ে দেখি আমরা একটু শক্ত হয়ে দাঁড়ালে উনারা বিপক্ষে অবস্থান নেন। এ জন্যই আসলে পারা যাচ্ছে না। এসব ভালো কাজে অনেক বাঁধা আসছে। বাঁধা আসলেও আমরা মানবো না। আমি ফাইনাল কথা বললাম ডোন্ট কেয়ার। এ সময় পৌর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে নানা অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। সামনে কোনো দুর্নীতি যেন না হয়।

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে আমির হামজা বলেন, আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি ওই দিন। বাড়িঘর ভাঙ্গা যেহেতু আইনে নেই, সুতরাং এই কাজটা যারা করেছে এটা ন্যাক্কারজনক কাজ। তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমি বলেছি।

তিনি বলেন, আইন আইনের মতো চলবে। এই হামলা-ভাঙচুর আমরা কখনোই সমর্থন করি না। মাদক ব্যবসা বন্ধে আইনে যেভাবে নির্মূল করার আছে সেভাবেই নির্মূল করা হবে। সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, পৌর প্রশাসক আহমেদ মাহবুব উল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সি পরতে বাধ্য হচ্ছে আর্জেন্টিনা

কুষ্টিয়া পৌরসভার নাগরিক সমস্যা সমাধানে এক সপ্তাহের সময় দিলেন আমির হামজা

আপডেট সময় ০৯:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘আমরা পৌরবাসীর কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সাত দিনের ভেতরে যেগুলো করা সম্ভব সেগুলো সাত দিনেই করতে হবে, আটদিনে যেন না যায়। আর বাকি যেগুলো লং প্রসেস আছে সেগুলো তো আর ৭ দিনের ভেতরে কাজ সম্পন্ন করে নিয়ে আসা সম্ভব না। সেগুলোতে আরও ১৫ দিন, ২০ দিন, ১ মাস, যা লাগবে সময় যেটা লাগবে দেওয়া লাগবে।’

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পৌর অডিটরিয়ামে পৌরসভায় নাগরিক সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা পৌর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

এ সময় নাগরিকরা যানজট, পানি সমস্যা, মশা, আবর্জনা মুক্তকরণ, সড়ক ও ড্রেনেজসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যার কথা শুনে পৌর কর্মকর্তাদের নোট করে নিয়ে সমাধানে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন সংসদ সদস্য আমির হামজা।

এ সময় আমির হামজা বলেন, আমার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি। সেখানকার আশপাশের বাড়ি থেকে এসে ড্রেনের ভেতরে ময়লা ফেলে। তারা ময়লার গাড়িতে ময়লা দিতে চায় না। টাকা দেওয়া লাগবে এই কারণে।

তিনি আরও বলেন, এসবের কারণেই ড্রেনে ময়লা জমে জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। এদের ওপরে আইন প্রয়োগ করা লাগবে। পৌর কর্তৃপক্ষ অথবা প্রশাসন যারা আছেন। পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলবো। বাসিন্দারা যেন ড্রেনে ময়লা ফেলতে না পারে। প্রয়োজনে জরিমানা করবে, শাস্তি দেবে।

আমির হামজা বলেন, বিশেষ করে ফুটপাতে দোকান করে বেচাকেনা বন্ধ করা। সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কন্ট্রোলে আনা। ঈদ হোক আর যাই হোক। আশা করছি শহর ভালো হবে। কুষ্টিয়া পৌরসভার ভেতরে ৪ নং, ৫ নং ও ১০ নং ওয়ার্ডে বেশি সমস্যা। অন্যান্য ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গাতেও আছে। তবে এগুলো একটু বেশি সমস্যা। আমরা কেবল একটাতে হাত দিয়েছি, বাকিগুলোতে পর্যায়ক্রমে হাত দেবো।

তিনি আফসোস করে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা সরকার গঠন করে যদি জায়গায় থাকতে পারতাম তাহলে অ্যাকশনটা আরও বেশি নিতে পারতাম। বিরোধীতে আছি, হয়তো অ্যাকশন বেশি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আমির হামজা বলেন, আমাদের কিছু বন্ধুরা আমার বিপক্ষে থাকছে। তারা ওপরে ওপরে আমাকে বলে আমরা আছি, সাহায্যের জন্য পেছনে আছি। ভালো কাজের জন্য আমরা সাহায্য করবো, সহযোগিতা করবো। কিন্তু পেছনে গিয়ে দেখি আমরা একটু শক্ত হয়ে দাঁড়ালে উনারা বিপক্ষে অবস্থান নেন। এ জন্যই আসলে পারা যাচ্ছে না। এসব ভালো কাজে অনেক বাঁধা আসছে। বাঁধা আসলেও আমরা মানবো না। আমি ফাইনাল কথা বললাম ডোন্ট কেয়ার। এ সময় পৌর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে নানা অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। সামনে কোনো দুর্নীতি যেন না হয়।

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে আমির হামজা বলেন, আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি ওই দিন। বাড়িঘর ভাঙ্গা যেহেতু আইনে নেই, সুতরাং এই কাজটা যারা করেছে এটা ন্যাক্কারজনক কাজ। তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমি বলেছি।

তিনি বলেন, আইন আইনের মতো চলবে। এই হামলা-ভাঙচুর আমরা কখনোই সমর্থন করি না। মাদক ব্যবসা বন্ধে আইনে যেভাবে নির্মূল করার আছে সেভাবেই নির্মূল করা হবে। সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, পৌর প্রশাসক আহমেদ মাহবুব উল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।