রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো জনসাধারণের চলাচলের একটি রাস্তা কেটে পুকুরে পরিণত করা, ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তে গাফিলতি ও পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভাগীয় কমিশনার, রংপুরের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিস পিটিশন নং-৭০/২০২৬ (ধারা ১৩৩) বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং এর আগে বিবাদী জহাব আলীর দায়ের করা ১৪৪/১৪৫ ধারার মিস মামলা নং-২৯৭/২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে প্রকৃত ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে, জমির কাগজপত্রে ১২ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও ১৫ শতাংশ দাবি করে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, তাদের পরিবারসহ কয়েকটি পরিবার প্রায় পাঁচ দশক ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদীপক্ষ ধাপে ধাপে রাস্তা কেটে পুকুরে পরিণত করে এবং ইটের প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মিঠাপুকুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে সময়মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এ সুযোগে বিবাদীপক্ষ রাস্তা দখল ও স্থাপনা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে। পরে ঘটনাস্থল সরেজমিনে তদন্ত না করেই বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মামলার কার্যক্রম চলাকালে রাস্তা কাটা, প্রাচীর নির্মাণ ও দখলের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হলেও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে হওয়া ফোনালাপের রেকর্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসীও জানেন যে, ১৪৪ ধারার মামলা দায়েরের পরই রাস্তা দখলের ঘটনা ঘটে।
আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেই ভুক্তভোগী বিধবা রওশনারা বেগমকে ১৩৩ ধারায় মামলা করার পরামর্শ দেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তদন্ত বিলম্বিত করেন এবং পরে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা ভূমিক কমিশনার কে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেনি।
উপরোক্ত বিষয় জানতে চাইলে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন আমি বদলি আসার পর এই একটি আমার ব্যর্থতা আশা করি খুব শীঘ্রই আই নানকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক বলেন,বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া সরকারি জরিপ চলাকালে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার আমিনের উপস্থিতিতে বিবাদীপক্ষ রাস্তার একটি অংশ কেটে ফেলে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনও তাদের কাছে রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি 


















