ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাইয়ের ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ বিয়েবাড়িতে খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় তুমুল মারামারি নেপালে আবার কেন জেন-জি বিক্ষোভ, নেপথ্যে কী? আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে সমর্থন ট্রাম্প প্রশাসনের! রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী ভোলায় সমাজসেবা প্রশিক্ষণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ একটি ঘর, এক টুকরো স্বপ্ন-ইউএনও ও RSUF ফাউন্ডেশনের মানবিক উপহার কালিহাতীতে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংবিরোধী প্রচার সভা অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমিয়ে অর্ধেক করল সরকার

রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে আইএমএফকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যে কোন বড় সংস্কার বা পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এবং আইএমএফ প্রতিনিধির দল এতে একমত পোষণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান Ivo Krznar এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। আইএমএফ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ-এর সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে (Sequencing) পরিবর্তনগুলো আনা হবে।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান (Respect) জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ার বাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

ভুর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে। এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার

রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে আইএমএফকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যে কোন বড় সংস্কার বা পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এবং আইএমএফ প্রতিনিধির দল এতে একমত পোষণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান Ivo Krznar এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। আইএমএফ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ-এর সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে (Sequencing) পরিবর্তনগুলো আনা হবে।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান (Respect) জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ার বাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

ভুর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে। এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।