ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

গণপূর্তের নুরুল আমিন মিয়ার ১২০ কোটির টেন্ডার কেলেঙ্কারি

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫০ বার পড়া হয়েছে

বিগত সরকারের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বহুল আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বহু প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে নাম উঠে এসেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার।

সরকারি প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে কারসাজি, কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে একাধীকবার তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও দমানো যায়নি নুরুল আমিন মিয়াকে। এছাড়াও গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে শাস্তির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সুপারিশ কার্যকর হয়নি বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযানে নামেন। প্রায় ১২০ কোটি টাকার একটি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র (আইডি ১১২০৮৫৩) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল দরপত্র পুনরায় আহ্বান এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে নুরুল আমিন মিয়ার সুবিধা পাইয়ে দিয়ে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একই প্রকল্প নতুন আইডি (১২০৭৪৯৯) দিয়ে পুনরায় আহ্বান করা হয়—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নুরুল আমিন মিয়ার, যা তাকে একাধিকবার পদোন্নতি পেতে সহায়তা করেছে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন অনেক কর্মকর্তা।

এছাড়াও নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের ভাড়া বাসায় বসবাস, গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয়, কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত—এমন তথ্য বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, তার বৈধ আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য।” অভিযোগ আছে—প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে তিনি বারবার অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন। যদিও এ দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

তার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেন নি। পরে খুদে বার্তার উত্তর চাইলে তাও এড়িয়ে যান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প পুনরায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

গণপূর্তের নুরুল আমিন মিয়ার ১২০ কোটির টেন্ডার কেলেঙ্কারি

আপডেট সময় ০৩:০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিগত সরকারের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বহুল আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বহু প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে নাম উঠে এসেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার।

সরকারি প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে কারসাজি, কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে একাধীকবার তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও দমানো যায়নি নুরুল আমিন মিয়াকে। এছাড়াও গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে শাস্তির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সুপারিশ কার্যকর হয়নি বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযানে নামেন। প্রায় ১২০ কোটি টাকার একটি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র (আইডি ১১২০৮৫৩) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল দরপত্র পুনরায় আহ্বান এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে নুরুল আমিন মিয়ার সুবিধা পাইয়ে দিয়ে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একই প্রকল্প নতুন আইডি (১২০৭৪৯৯) দিয়ে পুনরায় আহ্বান করা হয়—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নুরুল আমিন মিয়ার, যা তাকে একাধিকবার পদোন্নতি পেতে সহায়তা করেছে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন অনেক কর্মকর্তা।

এছাড়াও নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের ভাড়া বাসায় বসবাস, গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয়, কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত—এমন তথ্য বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, তার বৈধ আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য।” অভিযোগ আছে—প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে তিনি বারবার অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন। যদিও এ দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

তার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেন নি। পরে খুদে বার্তার উত্তর চাইলে তাও এড়িয়ে যান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প পুনরায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।