সংবাদ শিরোনাম ::
আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা সংসদে প্রকাশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে : শিক্ষামন্ত্রী মৌলভীবাজারের বড়লেখা দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক ৩০০ প্যাকেট ভারতীয় মন্ড সিগারেট আটক দেশে নতুন উদ্যোক্তা না আসাই আয় বৈষম্যের মূল কারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন কেইনকে কালো জাদু করা ঘানার সেই তান্ত্রিক দেশের ৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী দুর্নীতি মামলায় টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিরাজুল ও জ্বালানি সচিব সাইফুলের সিন্ডিকেটে কোটি টাকা আত্মসাত

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবীশ গিয়াসের বিরুদ্ধে কমিশন আদায় ও হয়রানির অভিযোগ

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের এই ভিআইপি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি দলিল সম্পাদিত হয়। হাজারো মানুষের যাতায়াত আর বিপুল অংকের আর্থিক লেনদেনের এই কেন্দ্রটি এখন এক অসাধু কর্মচারীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নাম গিয়াস উদ্দিন, যিনি পেশায় একজন সাধারণ ‘নকল নবীশ’ হলেও পুরো অফিস এখন তাঁর আঙুল হেলানোয় চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেড অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও গিয়াস উদ্দিনের দাপট এখন খোদ সাব-রেজিস্ট্রারের চেয়েও বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তিনি সেখানে নিজের একক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অফিসের এক দলিল লেখক আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করতে হলে সরকারি ফি’র বাইরে গিয়াস উদ্দিনকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। যদি কোনো দলিল লেখক বা ক্রেতা এই অনৈতিক কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে গিয়াস উদ্দিন নথিপত্রে নানা অজুহাতে ভুল ধরেন এবং সংশ্লিষ্টদের চরম হেনস্তা করেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাঁকে ৫ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি কমিশন দিয়ে কাজ উদ্ধার করতে হয়।”

গিয়াস উদ্দিনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষের টাকা আদায় করে রাতে তিনি বেপরোয়া জীবনযাপন করেন। রাজধানীর বড় বড় বারগুলোতে মদ্যপ অবস্থায় তাঁর আনন্দময় সময় কাটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাজধানীর বিতর্কিত ‘জাকারিয়া হোটেল’-এ নারী সঙ্গীসহ তাঁর প্রবেশের একাধিক তথ্য ও ছবি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘুষের টাকায় আমোদ-প্রমোদ আর মদ্যপানই এখন তাঁর নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিতর্কিত এই নকল নবীশের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের সত্যতা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে কোনো সংস্থাই তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী দলিল লেখকদের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী হয়েও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে কি না? কার ছত্রছায়ায় তিনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি অফিস নিয়ন্ত্রণ করছেন?
গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন এবং গিয়াস উদ্দিনের এই ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ভাঙতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। অন্যথায় এই খাতের স্বচ্ছতা ও সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা সংসদে প্রকাশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবীশ গিয়াসের বিরুদ্ধে কমিশন আদায় ও হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের এই ভিআইপি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি দলিল সম্পাদিত হয়। হাজারো মানুষের যাতায়াত আর বিপুল অংকের আর্থিক লেনদেনের এই কেন্দ্রটি এখন এক অসাধু কর্মচারীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নাম গিয়াস উদ্দিন, যিনি পেশায় একজন সাধারণ ‘নকল নবীশ’ হলেও পুরো অফিস এখন তাঁর আঙুল হেলানোয় চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেড অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও গিয়াস উদ্দিনের দাপট এখন খোদ সাব-রেজিস্ট্রারের চেয়েও বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তিনি সেখানে নিজের একক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অফিসের এক দলিল লেখক আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করতে হলে সরকারি ফি’র বাইরে গিয়াস উদ্দিনকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। যদি কোনো দলিল লেখক বা ক্রেতা এই অনৈতিক কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে গিয়াস উদ্দিন নথিপত্রে নানা অজুহাতে ভুল ধরেন এবং সংশ্লিষ্টদের চরম হেনস্তা করেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাঁকে ৫ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি কমিশন দিয়ে কাজ উদ্ধার করতে হয়।”

গিয়াস উদ্দিনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষের টাকা আদায় করে রাতে তিনি বেপরোয়া জীবনযাপন করেন। রাজধানীর বড় বড় বারগুলোতে মদ্যপ অবস্থায় তাঁর আনন্দময় সময় কাটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাজধানীর বিতর্কিত ‘জাকারিয়া হোটেল’-এ নারী সঙ্গীসহ তাঁর প্রবেশের একাধিক তথ্য ও ছবি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘুষের টাকায় আমোদ-প্রমোদ আর মদ্যপানই এখন তাঁর নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিতর্কিত এই নকল নবীশের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের সত্যতা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে কোনো সংস্থাই তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী দলিল লেখকদের প্রশ্ন— একজন সাধারণ কর্মচারী হয়েও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে কি না? কার ছত্রছায়ায় তিনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি অফিস নিয়ন্ত্রণ করছেন?
গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন এবং গিয়াস উদ্দিনের এই ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ভাঙতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। অন্যথায় এই খাতের স্বচ্ছতা ও সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।