সংবাদ শিরোনাম ::
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান ও স্ত্রীর বিলাসবহুল ৩ সম্পদের মালিকানা বদল নিয়ে প্রশ্ন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবীশ গিয়াসের বিরুদ্ধে কমিশন আদায় ও হয়রানির অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তা শামীমের পদোন্নতি ঘিরে বিতর্ক শুধু রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাক্যান্টিন থেকেই প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা গুনে গুনে নেন ডিআইজি মোঃ কামাল ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রঞ্জিত দে’র বিরুদ্ধে পানামা পেপারসে নাম, ১২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার “ড্রাই আনারস” এর চমক! কৃষি শিল্পে নতুন বিপ্লব ৬ মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তা শামীমের পদোন্নতি ঘিরে বিতর্ক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নকল সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) আমদানির মূল কারিগর হিসেবে অভিযোগ ওঠা কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তীব্র বিতর্ক ও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে গ্রেড-৫ পদে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস হাউজের একটি বিশেষ অভিযানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি পণ্যচালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করা হয়। এই জাল স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব ফাঁকির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়। যেখানে কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিসহ জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও এর মূল হোতা কাস্টমসের তৎকালীন উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম নেই। অথচ অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে এই চালান আমদানির মূল কারিগর হিসেবে কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম উঠে আসে।
মামলার প্রাথমিক শুনানিতে ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলেও এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তাকে মামলার আসামি না করে রহস্যজনকভাবে আড়াল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি অভিযুক্তদের অফিসে ডিসি শামীমের যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়ার পরেও তাকে মামলা থেকে আড়াল করার ঘটনা তুলেছে নানান প্রশ্ন।
মোঃ শামীম উল আলম এর আগে যখন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, বগুড়ায় কর্মরত ছিলেন, তখনও তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যের আপ্যায়ন ও সুবিধা আদায়ের কারণে তিনি কাস্টমস সার্কেলে বিশেষভাবে সমালোচিত ছিলেন। এছাড়া বুয়েটের সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নানাবিধ সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন বলে কাস্টমসের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজস্ব সুরক্ষায় যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি করে, সেখানে ৯ কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির সাথে নাম জড়ানো একজন কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি করার পরিবর্তে পুরস্কৃত করার ঘটনায় হতবাক সচেতন মহল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান ও স্ত্রীর বিলাসবহুল ৩ সম্পদের মালিকানা বদল নিয়ে প্রশ্ন

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তা শামীমের পদোন্নতি ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় ০১:৩৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নকল সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) আমদানির মূল কারিগর হিসেবে অভিযোগ ওঠা কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তীব্র বিতর্ক ও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে গ্রেড-৫ পদে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস হাউজের একটি বিশেষ অভিযানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি পণ্যচালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করা হয়। এই জাল স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব ফাঁকির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়। যেখানে কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিসহ জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও এর মূল হোতা কাস্টমসের তৎকালীন উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম নেই। অথচ অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে এই চালান আমদানির মূল কারিগর হিসেবে কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম উঠে আসে।
মামলার প্রাথমিক শুনানিতে ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলেও এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তাকে মামলার আসামি না করে রহস্যজনকভাবে আড়াল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি অভিযুক্তদের অফিসে ডিসি শামীমের যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়ার পরেও তাকে মামলা থেকে আড়াল করার ঘটনা তুলেছে নানান প্রশ্ন।
মোঃ শামীম উল আলম এর আগে যখন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, বগুড়ায় কর্মরত ছিলেন, তখনও তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যের আপ্যায়ন ও সুবিধা আদায়ের কারণে তিনি কাস্টমস সার্কেলে বিশেষভাবে সমালোচিত ছিলেন। এছাড়া বুয়েটের সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নানাবিধ সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন বলে কাস্টমসের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজস্ব সুরক্ষায় যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি করে, সেখানে ৯ কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির সাথে নাম জড়ানো একজন কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি করার পরিবর্তে পুরস্কৃত করার ঘটনায় হতবাক সচেতন মহল।