সংবাদ শিরোনাম ::
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান ও স্ত্রীর বিলাসবহুল ৩ সম্পদের মালিকানা বদল নিয়ে প্রশ্ন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবীশ গিয়াসের বিরুদ্ধে কমিশন আদায় ও হয়রানির অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তা শামীমের পদোন্নতি ঘিরে বিতর্ক শুধু রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাক্যান্টিন থেকেই প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা গুনে গুনে নেন ডিআইজি মোঃ কামাল ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রঞ্জিত দে’র বিরুদ্ধে পানামা পেপারসে নাম, ১২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার “ড্রাই আনারস” এর চমক! কৃষি শিল্পে নতুন বিপ্লব ৬ মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

শুধু রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাক্যান্টিন থেকেই প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা গুনে গুনে নেন ডিআইজি মোঃ কামাল

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার মুনাফা গোপন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কারা উপ মহা পরিদর্শক রংপুর বিভাগ(ডিআইজি) মোঃ কামালের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে, ক্যান্টিনের প্রকৃত আয় সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হলেও কাগজে-কলমে কম দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে।
এক অনুসন্ধানে দেখাযায়, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে ৮/৯ লাখ টাকারও বেশি মুনাফা অর্জিত হলেও সরকারি হিসাবপত্রে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বেশি দেখানো হয় না। ফলে অবশিষ্ট অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করেন এই কারা বিভাগের কর্মকর্তা বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজনস) নির্দেশনা অনুযায়ী কারা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গবাদিপশু পালন ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে কঠোর নীতিমালা থাকলেও কারা উপমহা পরিদর্শকে সরকারি বাংলোতে কারারক্ষীদের দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ টি ভেড়ার খামার পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কারারক্ষীদের উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরও অভিযোগ নিজ এলাকার লালমনিরহাট হওয়ায় এবং রংপুরে নিজের ভাইয়ের বাড়ি আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থাকায় অনেকটা এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই কারা কর্মকর্তার রয়েছে সুনাম দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুল এমন একজন দক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি কতটা সত্যটা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্তে-ই বেরিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নন-কমিশন কারা কর্মকর্তা জানান, “কারাগারের অভ্যন্তরে আগের মতোই নানা অনিয়ম চলছে। বন্দীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে কারা ক্যান্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্য দ্বিগুণ বা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয়। এক কেজি গরুর মাংস ১,৫০০ টাকা এবং এক কেজি বয়লার মুরগির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লাভ হলেও হিসাবপত্রে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা দেখানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এসব অনিয়মের সুবিধা ভোগ করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর আমাদের চাকরি রক্ষা করেই চলতে হয়। সামান্য ভুল করলেও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।”
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারের ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর ফলে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্যান্য কারাগারে যখন ক্যান্টিন পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্বিগুণ-তিনগুণ আয় বৃদ্ধির নজির তৈরি হয়েছে, তখন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা কেন কার্যকর নজরদারির বাইরে রয়েছে—সে প্রশ্নও উঠেছে।
এবিষয়ে কারা উপ মহাপরিদর্শক জনাব কামাল হোসেন নিশ্চিত করেন,অভিযোগের বিষটি সত্যতা নেই।তবে ভাড়া পালনের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান তিনি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান ও স্ত্রীর বিলাসবহুল ৩ সম্পদের মালিকানা বদল নিয়ে প্রশ্ন

শুধু রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাক্যান্টিন থেকেই প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা গুনে গুনে নেন ডিআইজি মোঃ কামাল

আপডেট সময় ০১:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার মুনাফা গোপন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কারা উপ মহা পরিদর্শক রংপুর বিভাগ(ডিআইজি) মোঃ কামালের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে, ক্যান্টিনের প্রকৃত আয় সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হলেও কাগজে-কলমে কম দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে।
এক অনুসন্ধানে দেখাযায়, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে ৮/৯ লাখ টাকারও বেশি মুনাফা অর্জিত হলেও সরকারি হিসাবপত্রে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বেশি দেখানো হয় না। ফলে অবশিষ্ট অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করেন এই কারা বিভাগের কর্মকর্তা বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজনস) নির্দেশনা অনুযায়ী কারা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গবাদিপশু পালন ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে কঠোর নীতিমালা থাকলেও কারা উপমহা পরিদর্শকে সরকারি বাংলোতে কারারক্ষীদের দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ টি ভেড়ার খামার পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কারারক্ষীদের উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরও অভিযোগ নিজ এলাকার লালমনিরহাট হওয়ায় এবং রংপুরে নিজের ভাইয়ের বাড়ি আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থাকায় অনেকটা এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই কারা কর্মকর্তার রয়েছে সুনাম দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুল এমন একজন দক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি কতটা সত্যটা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্তে-ই বেরিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নন-কমিশন কারা কর্মকর্তা জানান, “কারাগারের অভ্যন্তরে আগের মতোই নানা অনিয়ম চলছে। বন্দীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে কারা ক্যান্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্য দ্বিগুণ বা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয়। এক কেজি গরুর মাংস ১,৫০০ টাকা এবং এক কেজি বয়লার মুরগির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লাভ হলেও হিসাবপত্রে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা দেখানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এসব অনিয়মের সুবিধা ভোগ করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর আমাদের চাকরি রক্ষা করেই চলতে হয়। সামান্য ভুল করলেও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।”
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারের ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর ফলে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্যান্য কারাগারে যখন ক্যান্টিন পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্বিগুণ-তিনগুণ আয় বৃদ্ধির নজির তৈরি হয়েছে, তখন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা কেন কার্যকর নজরদারির বাইরে রয়েছে—সে প্রশ্নও উঠেছে।
এবিষয়ে কারা উপ মহাপরিদর্শক জনাব কামাল হোসেন নিশ্চিত করেন,অভিযোগের বিষটি সত্যতা নেই।তবে ভাড়া পালনের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান তিনি