ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

ভোট দিতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার শেষ ভরসা ট্রেনের ছাদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১২:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬১৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। টানা চারদিনের ছুটিতে দূরপাল্লার বাস স্ট্যান্ডগুলোর পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষকে ট্রেন নির্ভর হতে দেখা গেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে চড়েছেন ট্রেনের ছাদে। যেন ট্রেনের ছাদই তাদের শেষ ভরসা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ট্রেন ছেড়ে গেছে। প্রত্যেকটি ট্রেনেই ব্যাপক ভিড় ছিল। সিটে বসা যাত্রীদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ভিড় দরজা গিয়ে ঠেকেছে বগির প্রবেশ মুখ পর্যন্ত। অনেকে আবার টিকিট কেটেও সিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। কেউ কেউ আবার জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে ভোট দিতে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দেড় দশক তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সেটি কোনোভাবেই নষ্ট করতে চান না তারা। সেজন্য কষ্ট করে হলেও মূল্যবান ভোট দিতে বাড়ির দিকে ছুটছেন।

কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের যাত্রী রিপন মুন্সি বলেন, আমরা দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি ভোট দিতে। টিকিট পাইনি, তাই ট্রেনের ছাদেই যেতে হচ্ছে। ভেতরে দাঁড়ানোর মতো অবস্থাও নেই। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই গ্রামে যাচ্ছি। নিজের জন্য চিন্তা করছি না, ছেলে দুটোকে নিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই হলো।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে পোশাক শ্রমিক রোকসানা অভিযোগ করে বলেন, টিকিট কেটেও সিটে যেতে পারছি না। ট্রেন কিছু সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেবে। মানুষের এত ভিড়, ঈদের সময়কেও হার মানিয়েছে। তবে প্রথমবার ভোট দেব, সেজন্য খুব আনন্দ অনুভব করছি। কষ্ট হলেও এই আনন্দ নিয়েই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি।

একজন স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক যাত্রী অতি উৎসাহী হয়ে ভাড়া না দেওয়ার জন্য ছাদে চড়েছেন। তবে অনেকে বিকল্প না পেয়ে বাধ্য হয়ে উঠেছেন। যদিও মাইকিং করে ছাদে না উঠতে বলা হচ্ছে, তা সত্ত্বেও তারা উঠছেন। এত যাত্রী থাকলে তারা অনেক সময় ভেতরে থাকা যাত্রীদের টিকিটও চেক করতে পারেন না।

এদিকে, বাড়তি ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারগুলোতেও। প্রায় প্রতিটি কাউন্টারে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষকে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকেই আগে অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন, সেটি সংগ্রহ করতে তারা কাউন্টারে ভিড় করছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

ভোট দিতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার শেষ ভরসা ট্রেনের ছাদ

আপডেট সময় ১২:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। টানা চারদিনের ছুটিতে দূরপাল্লার বাস স্ট্যান্ডগুলোর পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষকে ট্রেন নির্ভর হতে দেখা গেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে চড়েছেন ট্রেনের ছাদে। যেন ট্রেনের ছাদই তাদের শেষ ভরসা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ট্রেন ছেড়ে গেছে। প্রত্যেকটি ট্রেনেই ব্যাপক ভিড় ছিল। সিটে বসা যাত্রীদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ভিড় দরজা গিয়ে ঠেকেছে বগির প্রবেশ মুখ পর্যন্ত। অনেকে আবার টিকিট কেটেও সিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। কেউ কেউ আবার জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে ভোট দিতে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দেড় দশক তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সেটি কোনোভাবেই নষ্ট করতে চান না তারা। সেজন্য কষ্ট করে হলেও মূল্যবান ভোট দিতে বাড়ির দিকে ছুটছেন।

কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের যাত্রী রিপন মুন্সি বলেন, আমরা দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি ভোট দিতে। টিকিট পাইনি, তাই ট্রেনের ছাদেই যেতে হচ্ছে। ভেতরে দাঁড়ানোর মতো অবস্থাও নেই। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই গ্রামে যাচ্ছি। নিজের জন্য চিন্তা করছি না, ছেলে দুটোকে নিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই হলো।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে পোশাক শ্রমিক রোকসানা অভিযোগ করে বলেন, টিকিট কেটেও সিটে যেতে পারছি না। ট্রেন কিছু সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেবে। মানুষের এত ভিড়, ঈদের সময়কেও হার মানিয়েছে। তবে প্রথমবার ভোট দেব, সেজন্য খুব আনন্দ অনুভব করছি। কষ্ট হলেও এই আনন্দ নিয়েই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি।

একজন স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক যাত্রী অতি উৎসাহী হয়ে ভাড়া না দেওয়ার জন্য ছাদে চড়েছেন। তবে অনেকে বিকল্প না পেয়ে বাধ্য হয়ে উঠেছেন। যদিও মাইকিং করে ছাদে না উঠতে বলা হচ্ছে, তা সত্ত্বেও তারা উঠছেন। এত যাত্রী থাকলে তারা অনেক সময় ভেতরে থাকা যাত্রীদের টিকিটও চেক করতে পারেন না।

এদিকে, বাড়তি ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারগুলোতেও। প্রায় প্রতিটি কাউন্টারে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষকে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকেই আগে অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন, সেটি সংগ্রহ করতে তারা কাউন্টারে ভিড় করছেন।