ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

ভোটের প্রচারণা চালালে জেল-জরিমানা, বাতিল হতে পারে প্রার্থিতাও

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের ৪৮ ঘণ্টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ‘সাইলেন্ট পিরিয়ড’ বা নীরব সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা নিয়ম ভেঙে মাঠে নামলে তা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। জনসভা, মিছিল বা শোডাউনের মতো কার্যক্রম চালালে নির্বাচন কমিশন চাইলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটাররা যাতে কোনো চাপ ছাড়াই শান্তিতে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়, সেজন্যই এই বিধিমালা প্রয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এছাড়া, মাইকিং বা শব্দযন্ত্রের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন কোনো প্রচারণা বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ আগে প্রচারণা শুরু করা গেলেও, তা অবশ্যই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা-২৭ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ বিধি লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর দায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা হলো বিধি-২৮। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয় যে কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তবে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আরপিও (আরপিও) ১৯৭২-এর আর্টিক্যাল ৯১ই অনুযায়ী কমিশন ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ে বিশেষ টিম এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় থাকবেন। আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। কেবল সশরীরে উপস্থিত হয়েই নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালালেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইসির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আচারবিধি লঙ্ঘন মাসব্যাপী অভিযানে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোট ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ৩৩টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ১৩টি মামলার বিপরীতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সর্বশেষ তিন দিনের হিসাব নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সবশেষ তিন দিনেও ছিল কড়া নজরদারি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২৮টি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় ১২টি মামলা এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২৮টি ঘটনায় ৮টি মামলা এবং ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২২টি ঘটনায় ১০টি মামলা এবং ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রার্থী বা দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

ভোটের প্রচারণা চালালে জেল-জরিমানা, বাতিল হতে পারে প্রার্থিতাও

আপডেট সময় ১২:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের ৪৮ ঘণ্টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ‘সাইলেন্ট পিরিয়ড’ বা নীরব সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা নিয়ম ভেঙে মাঠে নামলে তা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। জনসভা, মিছিল বা শোডাউনের মতো কার্যক্রম চালালে নির্বাচন কমিশন চাইলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটাররা যাতে কোনো চাপ ছাড়াই শান্তিতে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়, সেজন্যই এই বিধিমালা প্রয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এছাড়া, মাইকিং বা শব্দযন্ত্রের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন কোনো প্রচারণা বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ আগে প্রচারণা শুরু করা গেলেও, তা অবশ্যই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা-২৭ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ বিধি লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর দায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা হলো বিধি-২৮। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয় যে কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তবে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আরপিও (আরপিও) ১৯৭২-এর আর্টিক্যাল ৯১ই অনুযায়ী কমিশন ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ে বিশেষ টিম এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় থাকবেন। আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। কেবল সশরীরে উপস্থিত হয়েই নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালালেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইসির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আচারবিধি লঙ্ঘন মাসব্যাপী অভিযানে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোট ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ৩৩টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ১৩টি মামলার বিপরীতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সর্বশেষ তিন দিনের হিসাব নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সবশেষ তিন দিনেও ছিল কড়া নজরদারি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২৮টি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় ১২টি মামলা এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২৮টি ঘটনায় ৮টি মামলা এবং ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২২টি ঘটনায় ১০টি মামলা এবং ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রার্থী বা দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।