ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

মায়ের বিবস্ত্র শরীর ঢাকতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ইকবালপুর (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে মায়ের বিবস্ত্র শরীর রক্ষা করতে গিয়ে মোঃ নুরুজ্জামান (২৪) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুলার ছাইকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী লিলি বেগম ও রাহিমা বেগমের মধ্যে ঝগড়া ও চুল টানাটানির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যের কানে গেলে তিনি ০৮/০২/২০২৬ ইং তারিখে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মীমাংসা করার কথা জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্থানীয় পাতি নেতা—ঈশ্বদ,রবিউল, ফকরুলসহ আরও কয়েকজন—জোরপূর্বক সালিশ বসানোর উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সালিশের নেতৃত্বে থাকা ইকবালপুর গ্রামের ইশ্বদ, ফকরুল, রবিউল ও সাইদুল লিলি বেগমকে সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। লিলি বেগম সালিশে পৌঁছাতে দেরি করায় রবিউল, ইশ্বদ, সাইদুল ও আলামিন তাকে শাসাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লিলি বেগম সালিশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগমের মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম, রাহিমা বেগম এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম লিলি বেগমকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন।

এ সময় তিন দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসা লিলি বেগমের ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও পেছন দিক থেকে লাথি মারতে থাকে। এতে নুরুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর অসুস্থ নুরুজ্জামানকে বাড়িতে রেখে লিলি বেগম ফিরে আসতে চাইলে সালিশদার ইশ্বদ, রবিউল, ফকরুল ও সাইদুল জোরপূর্বক তাকে সালিশে বসিয়ে লোক দেখানো একটি মীমাংসা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে নুরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী তিন দিনের জন্য ছুটিতে এসেছিল। আমাদের সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

এ বিষয়ে ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, “আমার ওয়ার্ডে ঘটনা ঘটেছে। আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আজ বসার কথা ছিল। কিন্তু কথিত বিচারক সেজে যারা বিচারের নামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা কখনোই কাম্য নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে বলে আমি আশা করি।”

অন্যদিকে, ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন মাস্টার দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে জানান, “এই সালিশের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কিছুই জানে না।” এ কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর সি সার্কেল ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বারবার যোগাযোগ করে বক্তব্য চাওয়া হলেও তারা কখনো কর্ণপাত করেননি।
এ বিষয়ে রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন,কথিত বিচারের নামে যারা এমন একটি নেককারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা কখনোই কাম্য নয় অত্যন্ত গুরুত্বের সহকারে ঘটনা কি তদন্ত করা হচ্ছে প্রকৃত দোষীরা কেউই ছাড় পাবেনা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

মায়ের বিবস্ত্র শরীর ঢাকতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

আপডেট সময় ১২:১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ইকবালপুর (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে মায়ের বিবস্ত্র শরীর রক্ষা করতে গিয়ে মোঃ নুরুজ্জামান (২৪) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুলার ছাইকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী লিলি বেগম ও রাহিমা বেগমের মধ্যে ঝগড়া ও চুল টানাটানির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যের কানে গেলে তিনি ০৮/০২/২০২৬ ইং তারিখে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মীমাংসা করার কথা জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্থানীয় পাতি নেতা—ঈশ্বদ,রবিউল, ফকরুলসহ আরও কয়েকজন—জোরপূর্বক সালিশ বসানোর উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সালিশের নেতৃত্বে থাকা ইকবালপুর গ্রামের ইশ্বদ, ফকরুল, রবিউল ও সাইদুল লিলি বেগমকে সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। লিলি বেগম সালিশে পৌঁছাতে দেরি করায় রবিউল, ইশ্বদ, সাইদুল ও আলামিন তাকে শাসাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লিলি বেগম সালিশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগমের মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম, রাহিমা বেগম এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম লিলি বেগমকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন।

এ সময় তিন দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসা লিলি বেগমের ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও পেছন দিক থেকে লাথি মারতে থাকে। এতে নুরুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর অসুস্থ নুরুজ্জামানকে বাড়িতে রেখে লিলি বেগম ফিরে আসতে চাইলে সালিশদার ইশ্বদ, রবিউল, ফকরুল ও সাইদুল জোরপূর্বক তাকে সালিশে বসিয়ে লোক দেখানো একটি মীমাংসা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে নুরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী তিন দিনের জন্য ছুটিতে এসেছিল। আমাদের সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

এ বিষয়ে ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, “আমার ওয়ার্ডে ঘটনা ঘটেছে। আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আজ বসার কথা ছিল। কিন্তু কথিত বিচারক সেজে যারা বিচারের নামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা কখনোই কাম্য নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে বলে আমি আশা করি।”

অন্যদিকে, ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন মাস্টার দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে জানান, “এই সালিশের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কিছুই জানে না।” এ কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর সি সার্কেল ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বারবার যোগাযোগ করে বক্তব্য চাওয়া হলেও তারা কখনো কর্ণপাত করেননি।
এ বিষয়ে রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন,কথিত বিচারের নামে যারা এমন একটি নেককারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা কখনোই কাম্য নয় অত্যন্ত গুরুত্বের সহকারে ঘটনা কি তদন্ত করা হচ্ছে প্রকৃত দোষীরা কেউই ছাড় পাবেনা।