ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

পাটগ্রাম উপজেলায় তামাক চাষ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ, ভূট্টা চাষ প্রায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষি চাষাবাদের চিত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা গেছে। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভূট্টা চাষ প্রায় অর্জিত হলেও তামাক চাষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ভূট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩,৪৮০ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে প্রায় ১৩,৪০০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি। কৃষকরা ভূট্টা চাষে আগ্রহ দেখানোয় খাদ্য নিরাপত্তা ও পশুখাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, তামাক চাষের জন্য কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না থাকলেও বাস্তবে ৪,২১৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এতে করে পরিবেশগত ক্ষতি, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া তামাক চাষ খাদ্যশস্য উৎপাদনের জমি কমিয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের সচেতন করা এবং লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভূট্টা ও অন্যান্য খাদ্যশস্য চাষে প্রণোদনা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
কুচলীবাড়ী ইউনিয়নের ভূট্টা চাষি কলিম উদ্দিম জানান, গতবছর ভূট্টা চাষ করে লোকসান হয়েছিল এবারে তাই ভূট্টা বাদ দিয়ে তামাক চাষ করেছি।
ধবলশতীর গোলাম ফরিদ জানান, ভেজাল বীজ, কীটনাশক ও অতিরিক্ত দামে রাসয়নিক সার কিনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তাই বিকল্প চাষের ফসল না থাকায় তামাক চাষ করেছি।
পাটগ্রাম উপজেলা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, কৃষক গত বছরে তামাকের মূল্য সন্তোষজনক পাওয়ায় এবারে তামাক চাষে ঝুঁকেছেন। একই সাথে ভূট্টা আবাদের জমির পরিমাণ কমেছে, এছাড়াও সরকারের বর্তমানে চাওয়া কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্ত ভূট্টার আবাদ কমিয়ে নিয়ে আসা এবং পাশাপাশি গতবছরে ভূট্টার বাজারমূল্য কম থাকাও ভূট্টার আবাদ কম হওয়ার অন্যতম কারণ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

পাটগ্রাম উপজেলায় তামাক চাষ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ, ভূট্টা চাষ প্রায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষি চাষাবাদের চিত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা গেছে। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভূট্টা চাষ প্রায় অর্জিত হলেও তামাক চাষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ভূট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩,৪৮০ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে প্রায় ১৩,৪০০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি। কৃষকরা ভূট্টা চাষে আগ্রহ দেখানোয় খাদ্য নিরাপত্তা ও পশুখাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, তামাক চাষের জন্য কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না থাকলেও বাস্তবে ৪,২১৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এতে করে পরিবেশগত ক্ষতি, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া তামাক চাষ খাদ্যশস্য উৎপাদনের জমি কমিয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের সচেতন করা এবং লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভূট্টা ও অন্যান্য খাদ্যশস্য চাষে প্রণোদনা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
কুচলীবাড়ী ইউনিয়নের ভূট্টা চাষি কলিম উদ্দিম জানান, গতবছর ভূট্টা চাষ করে লোকসান হয়েছিল এবারে তাই ভূট্টা বাদ দিয়ে তামাক চাষ করেছি।
ধবলশতীর গোলাম ফরিদ জানান, ভেজাল বীজ, কীটনাশক ও অতিরিক্ত দামে রাসয়নিক সার কিনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তাই বিকল্প চাষের ফসল না থাকায় তামাক চাষ করেছি।
পাটগ্রাম উপজেলা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, কৃষক গত বছরে তামাকের মূল্য সন্তোষজনক পাওয়ায় এবারে তামাক চাষে ঝুঁকেছেন। একই সাথে ভূট্টা আবাদের জমির পরিমাণ কমেছে, এছাড়াও সরকারের বর্তমানে চাওয়া কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্ত ভূট্টার আবাদ কমিয়ে নিয়ে আসা এবং পাশাপাশি গতবছরে ভূট্টার বাজারমূল্য কম থাকাও ভূট্টার আবাদ কম হওয়ার অন্যতম কারণ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।