ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা
ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

গোয়াইনঘাটে বালুখেকোদের দাপট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১০:১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭২৪ বার পড়া হয়েছে

ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন, নিরবে কাঁদছে বালির হাওর।সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বালির হাওরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ও পেলোডার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রভাবশালী একটি চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি। বিশেষ করে এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজ চাষের জমি বালু চাপা পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করার সাহস না পেয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছেন অসহায় কৃষকরা।

সরেজমিনে ‘দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে কয়েক কোটি ঘনফুট বালু অবৈধভাবে স্তূপ (স্টক) করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো এলাকা।
এই ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িত একাধিক প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’র নাম পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন, ১১ নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের রহমান সিকদার, হোসেন, আলিম, হাসেম, সানোয়ার আর্মি, নাসির, জিয়া, দুলাল তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জাকির, গহর মেম্বার ও নাসির মুন্সি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পৈত্রিক জমিতে তরমুজ চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বালু খেকো চক্রটি জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলছে। ড্রেজারের পাইপ আর পেলোডারের শব্দে এলাকায় সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে। প্রভাবশালী হওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “আমাদের বুক ফাটা কান্না দেখার কেউ নেই। বালু খেকোদের ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। আমাদের স্বপ্নগুলো বালুর নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে গোয়াইনঘাটের কৃষি মানচিত্র থেকে বালির হাওর হারিয়ে যাবে। এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাদি জমি রক্ষার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

গোয়াইনঘাটে বালুখেকোদের দাপট

আপডেট সময় ১০:১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন, নিরবে কাঁদছে বালির হাওর।সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বালির হাওরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ও পেলোডার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রভাবশালী একটি চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি। বিশেষ করে এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজ চাষের জমি বালু চাপা পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করার সাহস না পেয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছেন অসহায় কৃষকরা।

সরেজমিনে ‘দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে কয়েক কোটি ঘনফুট বালু অবৈধভাবে স্তূপ (স্টক) করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো এলাকা।
এই ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িত একাধিক প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’র নাম পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন, ১১ নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের রহমান সিকদার, হোসেন, আলিম, হাসেম, সানোয়ার আর্মি, নাসির, জিয়া, দুলাল তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জাকির, গহর মেম্বার ও নাসির মুন্সি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পৈত্রিক জমিতে তরমুজ চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বালু খেকো চক্রটি জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলছে। ড্রেজারের পাইপ আর পেলোডারের শব্দে এলাকায় সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে। প্রভাবশালী হওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “আমাদের বুক ফাটা কান্না দেখার কেউ নেই। বালু খেকোদের ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। আমাদের স্বপ্নগুলো বালুর নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে গোয়াইনঘাটের কৃষি মানচিত্র থেকে বালির হাওর হারিয়ে যাবে। এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাদি জমি রক্ষার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।