সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

গোয়াইনঘাটে বালুখেকোদের দাপট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১০:১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৩ বার পড়া হয়েছে

ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন, নিরবে কাঁদছে বালির হাওর।সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বালির হাওরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ও পেলোডার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রভাবশালী একটি চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি। বিশেষ করে এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজ চাষের জমি বালু চাপা পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করার সাহস না পেয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছেন অসহায় কৃষকরা।

সরেজমিনে ‘দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে কয়েক কোটি ঘনফুট বালু অবৈধভাবে স্তূপ (স্টক) করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো এলাকা।
এই ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িত একাধিক প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’র নাম পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন, ১১ নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের রহমান সিকদার, হোসেন, আলিম, হাসেম, সানোয়ার আর্মি, নাসির, জিয়া, দুলাল তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জাকির, গহর মেম্বার ও নাসির মুন্সি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পৈত্রিক জমিতে তরমুজ চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বালু খেকো চক্রটি জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলছে। ড্রেজারের পাইপ আর পেলোডারের শব্দে এলাকায় সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে। প্রভাবশালী হওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “আমাদের বুক ফাটা কান্না দেখার কেউ নেই। বালু খেকোদের ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। আমাদের স্বপ্নগুলো বালুর নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে গোয়াইনঘাটের কৃষি মানচিত্র থেকে বালির হাওর হারিয়ে যাবে। এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাদি জমি রক্ষার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

গোয়াইনঘাটে বালুখেকোদের দাপট

আপডেট সময় ১০:১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ধ্বংস হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন, নিরবে কাঁদছে বালির হাওর।সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বালির হাওরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ও পেলোডার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রভাবশালী একটি চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি। বিশেষ করে এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজ চাষের জমি বালু চাপা পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করার সাহস না পেয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছেন অসহায় কৃষকরা।

সরেজমিনে ‘দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে কয়েক কোটি ঘনফুট বালু অবৈধভাবে স্তূপ (স্টক) করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো এলাকা।
এই ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িত একাধিক প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’র নাম পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন, ১১ নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের রহমান সিকদার, হোসেন, আলিম, হাসেম, সানোয়ার আর্মি, নাসির, জিয়া, দুলাল তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জাকির, গহর মেম্বার ও নাসির মুন্সি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পৈত্রিক জমিতে তরমুজ চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বালু খেকো চক্রটি জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলছে। ড্রেজারের পাইপ আর পেলোডারের শব্দে এলাকায় সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে। প্রভাবশালী হওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “আমাদের বুক ফাটা কান্না দেখার কেউ নেই। বালু খেকোদের ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। আমাদের স্বপ্নগুলো বালুর নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে গোয়াইনঘাটের কৃষি মানচিত্র থেকে বালির হাওর হারিয়ে যাবে। এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাদি জমি রক্ষার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।