হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি প্রতারক মাসুদুর রহমানের খপ্পরে পরে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার। মানুষের কাছ থেকে চাকুরী দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতাকে গুলি করে অসংখ্য লোককে হত্যা করেছে । এমনি অনেক অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের হাতে। তথ্য সূত্রে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত মাসুদ। একদল সরকারি আমলা ও সেনাবাহিনী,ডিজিএফ আই,র তকমা লাগিয়ে চাকুরী দেয়ার নাম করে গ্ৰামের অসহায় মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে শতকোটি টাকা। তার একটা ম্যাসেল বাহিনীর মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে এসকল অপকর্ম করে যাচ্ছে। চাকুরী প্রত্যাশিদের চাকুরী না দিয়ে উল্টো তাদের টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে।
তথ্য সূত্রে আরও জানা যায়, মাসুদুর রহমান রাজধানীর অভিজাত এলাকায় মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। মাদকের আন্ডার ওয়াল্ডের আধিপত্য ধরে রেখেছেন প্রায় দুই যুগ ধরে । মোহাম্মদপুর,ভাটারা, বসুন্ধরা,উত্তরা, শ্যামলী,আদাবর, গাবতলী এমনকি গাজীপুর পর্যন্ত তার মাদকের সাম্রাজ্য। প্রতিদিন প্রায় কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান সরবরাহ করে থাকেন। বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, মাসুদের সাম্রাজ্যে প্রশাসনের কেও যদি বাগড়া বসাতে যায় তাহলে তাকে হতে হয় নাজেহাল, অন্যথায় মৃত্যুর পথে চলে যেতে হয়। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ফয়সাল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হচ্ছে মাসুদ যার নং সি আর ১৮৭০/২৫। সে আদম ব্যবসা করে অসহায় লোকদের কাছ থেকেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার পালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। প্রতিবাদ করলেই হতে হয় নাজেহাল। এমনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোলার শফিকুল ইসলাম হাসান(৩৮) কে ইতালি নেয়ার কথা বলে লিবিয়া দিয়ে সাগর পারি দেয়ার সময় হাসান নিখোঁজ হয়। হাসানের পরিবার আজো তার পথ চেয়ে আছ। তার ছোট শিশুটি এখনো প্রতিরাতে বাবা বলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। হাসানের পরিবার মাসুদের সাথে যোগাযোগ করলে সে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এমনকি হত্যার হুমকি দেয়। হাসানের স্ত্রী কাকলি বলেন, আমার স্বামীকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মাসুদ আমাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা কন্টাক্ট করে ৮ লাখ টাকা নগদ নেয় বাকী টাকা ইতালি পৌঁছলে দেয়ার কথা। গত নভেম্বরে হাসানকে মাসুদ বিমান যোগে লিবিয়া পাঠায় সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিভাগে মাদকের আন্ডার ওয়ার্ল্ড পরিচালনা করেন লায়ন মাসুদুর রহমান। ঢাকার আভিজাত্য এলাকায় মাদকের সয়লাব করেছেন মাসুদ। মাদক বিক্রি করার জন্য একটি সেন্ডিকেট তৈরি করেন। যার নেতৃত্বে আছেন মুসকান নামের এক সুন্দরী মহিলা। তারা খদ্দেরের কাছে মাদক সরবরাহ করে এবং মনোরঞ্জন করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের চাহিদা মতো খদ্দের টাকা পরিশোধ না করলে অনৈতিক অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন ভিডিও ধারণ করে হানি ট্র্যাপ করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঢাকা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও মহানগরের অনেক মাদক স্পটে তার রমরমা মাদক বাণিজ্য চলে আসছে। তার এ কাজে সহায়তা করছে সেনাবাহিনী, ভিজিএফ আই,এন এস আই ও বিডিআরের অবসর প্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তারা।
এসকল অপকর্মের বিষয়ে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চেয়ে কল করলে সে জানান আমার টুক টাক ব্যবসা আছে এবিষয়ে আপনারা নাক গলানো ভালো মনে করছি না। আমি বিদেশে লোক পাঠাই। প্রশাসনের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরকারি চাকুরি দিয়ে থাকি। আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা হবে বলে কল কেটে দেন।
তার অপকর্মের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ভূক্তোভোগিরা প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সংবাদ শিরোনাম ::
হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি প্রতারক মাসুদুর রহমানের খপ্পরে পরে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার
-
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ - আপডেট সময় ১০:০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























