সংবাদ শিরোনাম ::
দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির স্টাফ রিপোর্টার প্রিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি শহীদ সন্তানের মায়ের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণে অশ্রুসিক্ত চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি শনিবারকে ছুটির দিন ভেবে পরীক্ষা মিস শাহনাজের, পরে গিয়েও মিলল না প্রবেশের অনুমতি দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার কৃমি নির্মূল করে যে পাতার রস শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২ মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক তার জায়গা সমাজে হবে না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কেন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেন না শাকিব খান? ১৭ বছরে অনেক নির্যাতনেও মাথা নত করিনি : মির্জা ফখরুল

ভাকুর্তায় ২ সন্তানের বাবা শাহাদাত হোসেন সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত

কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকার একটি আলোচিত ঘটনায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন দুই সন্তানের জনক শাহাদাত হোসেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত শাহাদাতের রেখে যাওয়া দুই নবজাতক সন্তানকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শাহাদাত অত্যন্ত ভদ্র ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। তারা বলেন, “শাহাদাত এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। তাকে কখনো অন্যায় কাজে জড়িত থাকতে দেখিনি।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহাদাতের বাবার উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি রয়েছে এবং তিনি নিজেও জমি, ফ্ল্যাট ও গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব ব্যবসা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং প্রায় ২৬ লাখ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, শাহাদাত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করতেন—এমনকি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নিতেন, যা অনেকের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গেলে আমাকে বলা হয়, আগে লাশ দাফন করতে হবে, তারপর অভিযোগ ও মামলা নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে মামলা না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে গুরুতর আঘাত ছিল; অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শাহাদাতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চাই। আমি একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করি। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়েও আমি বিষয়টি জানাব।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির স্টাফ রিপোর্টার প্রিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি

ভাকুর্তায় ২ সন্তানের বাবা শাহাদাত হোসেন সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত

আপডেট সময় ০৯:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকার একটি আলোচিত ঘটনায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন দুই সন্তানের জনক শাহাদাত হোসেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত শাহাদাতের রেখে যাওয়া দুই নবজাতক সন্তানকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শাহাদাত অত্যন্ত ভদ্র ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। তারা বলেন, “শাহাদাত এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। তাকে কখনো অন্যায় কাজে জড়িত থাকতে দেখিনি।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহাদাতের বাবার উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি রয়েছে এবং তিনি নিজেও জমি, ফ্ল্যাট ও গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব ব্যবসা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং প্রায় ২৬ লাখ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, শাহাদাত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করতেন—এমনকি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নিতেন, যা অনেকের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গেলে আমাকে বলা হয়, আগে লাশ দাফন করতে হবে, তারপর অভিযোগ ও মামলা নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে মামলা না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে গুরুতর আঘাত ছিল; অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শাহাদাতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চাই। আমি একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করি। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়েও আমি বিষয়টি জানাব।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।