ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজারে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে ফাঁদে ফেলে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের প্ররোচনায় কর্মচারী দোকানের ক্যাশ থেকে দীর্ঘদিন টাকা তুলে তাদের হাতে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত রিজন মেম্বারের “সার ঔষধের দোকান” ও ইন্টারনেট কেবল ব্যবসায় কর্মরত ছিলেন জিসান নামে এক যুবক। কিছুদিন আগে পূর্বের কর্মচারী চলে গেলে ব্যবসায়ী পার্টনার মো. বাপ্পির মাধ্যমে জিসানকে কাজে নেওয়া হয়। কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাকে দোকানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মালিক বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকায় জিসান দোকানের ক্যাশ ও ইন্টারনেট সংক্রান্ত কাজ দেখাশোনা করতেন।
ব্যবসায়ী রিজন মেম্বারের অভিযোগ, জিসান তার পাঁচ বন্ধু—ইসমাইল, জুবায়ের, রাফসান, মিহাদসহ অন্যদের প্ররোচনায় দোকানের ক্যাশ থেকে নিয়মিত দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে সরিয়ে নিতেন। এভাবে প্রায় তিন মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা, এমনকি তিন লাখ টাকারও বেশি আত্মসাত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি প্রথমে সন্দেহের উদ্রেক হলে জিসানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তার মোবাইল ফোন যাচাইয়ের মাধ্যমে মেসেঞ্জার চ্যাটে সংশ্লিষ্টতার কিছু তথ্য পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজন মেম্বার বলেন, “জিসান স্বীকার করেছে তার বন্ধুরা তাকে ফাঁদে ফেলে টাকা নিতে বাধ্য করত। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানালে একজনের পরিবার সালিশের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করে। কিন্তু অন্যদের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো আমাকে হুমকি দেয়। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”
এদিকে কর্মচারী জিসানও অভিযোগের সমর্থনে বলেন, বন্ধুদের চাপ ও প্ররোচনায় তিনি ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে দিতেন। তার দাবি, প্রতিদিন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও মাদক সেবনের জন্য তাকে টাকা আনতে বলা হতো। পরে বড় অংকের টাকা নেওয়ার চাপও দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি ধরা পড়ে গেলে সব প্রকাশ হয়ে যায়।
জিসান বলেন, “প্রথমে অল্প অল্প করে টাকা নিতাম। পরে তারা বড় অংকের টাকা নিতে চাপ দেয়। আমি ভয় পেয়ে রাজি হইনি। এর মধ্যেই মালিক বিষয়টি ধরে ফেলেন।”
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে জুবায়ের ও আফসান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, জিসানের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও মাদক সেবন কিংবা টাকা নেওয়ার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই। জিসান নিজে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়েছে, এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রিয়াজ ফরাজী (ভোলা) 


















