ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ ব্যাংক-মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৫,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর প্রকৌশলী অলিউল-ফুয়াদকে ঘিরে গৃহায়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষায় বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা হার্টের রিংয়ে অতিরিক্ত দাম, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দুদকের অভিযান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জুলাই শহীদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ আত্রাইয়ে যুবদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার জামিন নিয়ে মন্তব্য, কুমিল্লার এসপিকে লিগ্যাল নোটিশ শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন এনসিপি নেতা আখাউড়া সীমান্তে পাওয়া শাকিলের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ

স্মার্টফোনের জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে স্যামসাং

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৩৭ বার পড়া হয়েছে

বিজ্ঞান কল্পকাহিনিতে এমন ফোনের কথা শোনা যায়, যার স্ক্রিন ইচ্ছামতো ভাঁজ হয়ে আকার পরিবর্তন করতে পারে। এই ধারণা বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে স্যামসাং তাদের নতুন ‘গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড’ ফোনের মাধ্যমে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)-এ প্রথমবারের মতো ফোনটি প্রদর্শন করা হয়, যদিও দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছুটা সীমিত পরিসরে এটি আগে থেকেই বাজারে এসেছে। শিগগিরই এই ফোন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসবে।

গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড নাম থেকেই বোঝা যায় যে, এটি তিন ভাগে ভাঁজ হয়—দুই জায়গায় ভাঁজ করা যায়, ফলে এটি দেখতে অনেকটা ভাঁজ করা ব্রোশারের মতো। ভাঁজ করলে এটি একটি সাধারণ স্মার্টফোনের আকার নিলেও, খুললে এটি হয়ে যায় একটি বড় ট্যাবলেটের মতো। এর ভেতরের স্ক্রিনের আকার ১০ ইঞ্চি, যা গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ এর ৮ ইঞ্চি স্ক্রিনের চেয়ে বড়। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এ একটি ভাঁজ থাকলেও, ট্রাইফোল্ডে দুটি ভাঁজ রয়েছে, ফলে এটি আরও বেশি কাজের জায়গা প্রদান করে।

ফোনটি খোলা অবস্থায় পাতলা এবং হালকা মনে হলেও, ভাঁজ করলে এটি কিছুটা মোটা হয়ে যায়, যা দুইটি ফোন একসঙ্গে ধরার মতো অনুভূতি তৈরি করতে পারে। এর ফলে ফোনটি ব্যবহার করা কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে।

ফোনটির দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি খুবই ব্যয়বহুল হবে, কারণ গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর দাম প্রায় ২ হাজার ডলার থেকে শুরু। ট্রাইফোল্ড এর তুলনায় আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্যামসাংয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। ফোনটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, বরং এটি স্যামসাংয়ের কৌশলগত পরীক্ষা, যাতে তারা জানতে চাইছে, নতুন ধরনের ফোনকে মানুষের মধ্যে কিভাবে গ্রহণ করা হয়। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহযোগী পরিচালক লিজ লি বলছেন, এটি মূলত একটি ‘কৌশলগত পরীক্ষা’।

তবে, ফোনটির গুরুত্ব কম নয়, কারণ স্যামসাং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা এবং তাদের নতুন পণ্যগুলি বাজারে নতুন ধারা তৈরি করে। এর আগে ফোল্ডেবল ফোনেও স্যামসাং একই প্রভাব ফেলেছিল।

স্যামসাং জানিয়েছে, গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড মূলত কাজ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর বড় স্ক্রিনে একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানো যাবে, স্প্লিট স্ক্রিনে কাজ করা যাবে এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো আলাদা উইন্ডোতে অ্যাপ চালানো সম্ভব হবে। ব্লুটুথ কিবোর্ড ও মাউস যুক্ত করে এটি ছোট ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে, যা অফিসের কাজ, লেখা বা প্রেজেন্টেশন করার জন্য উপযুক্ত।

ফোনটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে উন্নতি করা হয়েছে, যাতে গুগলের জেমিনি এআই একসঙ্গে খোলা একাধিক অ্যাপের তথ্য বুঝে সহায়তা করে, ফলে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছে স্যামসাং।

ক্যামেরার দিক থেকেও স্যামসাং আপস করেনি। গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ডের ক্যামেরা গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার মতো উচ্চমানের। স্ক্রিনে দুটি ভাঁজের দাগ রয়েছে, তবে সেগুলি খুব বেশি চোখে পড়ে না।

বিশ্বব্যাপী ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনও ছোট এবং দাম অনেক বেশি, তাই ব্যবহারও সীমিত। তবে বর্তমানে প্রায় সব বড় অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা এই ধরনের ফোন আনছে, এবং শোনা যাচ্ছে, অ্যাপলও শিগগিরই ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড হয়তো এখনই সবার হাতে পৌঁছাবে না, তবে এটি স্মার্টফোনের ভবিষ্যতের একটি প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে এবং স্যামসাং এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের উন্নয়ন থেমে নেই, তা প্রমাণিত হচ্ছে।

সূত্র- সিএনএন

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক-মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৫,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর

স্মার্টফোনের জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে স্যামসাং

আপডেট সময় ০৭:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিজ্ঞান কল্পকাহিনিতে এমন ফোনের কথা শোনা যায়, যার স্ক্রিন ইচ্ছামতো ভাঁজ হয়ে আকার পরিবর্তন করতে পারে। এই ধারণা বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে স্যামসাং তাদের নতুন ‘গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড’ ফোনের মাধ্যমে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)-এ প্রথমবারের মতো ফোনটি প্রদর্শন করা হয়, যদিও দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছুটা সীমিত পরিসরে এটি আগে থেকেই বাজারে এসেছে। শিগগিরই এই ফোন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসবে।

গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড নাম থেকেই বোঝা যায় যে, এটি তিন ভাগে ভাঁজ হয়—দুই জায়গায় ভাঁজ করা যায়, ফলে এটি দেখতে অনেকটা ভাঁজ করা ব্রোশারের মতো। ভাঁজ করলে এটি একটি সাধারণ স্মার্টফোনের আকার নিলেও, খুললে এটি হয়ে যায় একটি বড় ট্যাবলেটের মতো। এর ভেতরের স্ক্রিনের আকার ১০ ইঞ্চি, যা গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ এর ৮ ইঞ্চি স্ক্রিনের চেয়ে বড়। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এ একটি ভাঁজ থাকলেও, ট্রাইফোল্ডে দুটি ভাঁজ রয়েছে, ফলে এটি আরও বেশি কাজের জায়গা প্রদান করে।

ফোনটি খোলা অবস্থায় পাতলা এবং হালকা মনে হলেও, ভাঁজ করলে এটি কিছুটা মোটা হয়ে যায়, যা দুইটি ফোন একসঙ্গে ধরার মতো অনুভূতি তৈরি করতে পারে। এর ফলে ফোনটি ব্যবহার করা কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে।

ফোনটির দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি খুবই ব্যয়বহুল হবে, কারণ গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর দাম প্রায় ২ হাজার ডলার থেকে শুরু। ট্রাইফোল্ড এর তুলনায় আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্যামসাংয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। ফোনটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, বরং এটি স্যামসাংয়ের কৌশলগত পরীক্ষা, যাতে তারা জানতে চাইছে, নতুন ধরনের ফোনকে মানুষের মধ্যে কিভাবে গ্রহণ করা হয়। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহযোগী পরিচালক লিজ লি বলছেন, এটি মূলত একটি ‘কৌশলগত পরীক্ষা’।

তবে, ফোনটির গুরুত্ব কম নয়, কারণ স্যামসাং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা এবং তাদের নতুন পণ্যগুলি বাজারে নতুন ধারা তৈরি করে। এর আগে ফোল্ডেবল ফোনেও স্যামসাং একই প্রভাব ফেলেছিল।

স্যামসাং জানিয়েছে, গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড মূলত কাজ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর বড় স্ক্রিনে একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানো যাবে, স্প্লিট স্ক্রিনে কাজ করা যাবে এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো আলাদা উইন্ডোতে অ্যাপ চালানো সম্ভব হবে। ব্লুটুথ কিবোর্ড ও মাউস যুক্ত করে এটি ছোট ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে, যা অফিসের কাজ, লেখা বা প্রেজেন্টেশন করার জন্য উপযুক্ত।

ফোনটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে উন্নতি করা হয়েছে, যাতে গুগলের জেমিনি এআই একসঙ্গে খোলা একাধিক অ্যাপের তথ্য বুঝে সহায়তা করে, ফলে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছে স্যামসাং।

ক্যামেরার দিক থেকেও স্যামসাং আপস করেনি। গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ডের ক্যামেরা গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার মতো উচ্চমানের। স্ক্রিনে দুটি ভাঁজের দাগ রয়েছে, তবে সেগুলি খুব বেশি চোখে পড়ে না।

বিশ্বব্যাপী ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনও ছোট এবং দাম অনেক বেশি, তাই ব্যবহারও সীমিত। তবে বর্তমানে প্রায় সব বড় অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা এই ধরনের ফোন আনছে, এবং শোনা যাচ্ছে, অ্যাপলও শিগগিরই ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড হয়তো এখনই সবার হাতে পৌঁছাবে না, তবে এটি স্মার্টফোনের ভবিষ্যতের একটি প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে এবং স্যামসাং এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের উন্নয়ন থেমে নেই, তা প্রমাণিত হচ্ছে।

সূত্র- সিএনএন