ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আত্রাইয়ে যুবদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার জামিন নিয়ে মন্তব্য, কুমিল্লার এসপিকে লিগ্যাল নোটিশ শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন এনসিপি নেতা আখাউড়া সীমান্তে পাওয়া শাকিলের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড়লেখায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরির ঘটনায় ৪ আসামি গ্রেফতার মাকসুদ কামাল ও জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাদকের টাকার জন্য ২০ মাসের মেয়েকে বিক্রি করতে নিয়ে যান বাবা জবি ক্যাম্পাসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

জামিন নিয়ে মন্তব্য, কুমিল্লার এসপিকে লিগ্যাল নোটিশ

বিচারাধীন মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়া নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের এক প্রকাশ্য মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের বরাত দিয়ে নোটিশে বলা হয়, কুমিল্লায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় এসপি মো. আনিসুজ্জামান মন্তব্য করেন—‘পুলিশ আসামি ধরবে আর ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়ে দেবেন, তা হয় না’।

ওই বক্তব্যের প্রকৃত ভাষা, প্রেক্ষাপট ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এসপিকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৭ ধারার কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারিক এখতিয়ারের বিষয়। পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে—এ কারণে আদালত তাকে জামিন দিতে পারবেন না, এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই।

নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বিচারিক আদালতের জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের মর্যাদা এবং বিচারিক কার্যক্রমের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে কি না।

এসপির কাছে নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় ওই বক্তব্য দিয়েছেন কি না; দিয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট অর্থ ও আইনগত ভিত্তি কী এবং কোন আইন, বিধি বা সরকারি নির্দেশনার বলে একজন এসপি বিচারিক আদালতের জামিন দেওয়ার বিষয়ে এমন মন্তব্য করার এখতিয়ার রাখেন।

সেই সঙ্গে ওই বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো বিচারিক আদালতের স্বাধীনতা, মর্যাদা বা বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত, বাধাগ্রস্ত বা জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বিচারিক আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশের আপত্তি থাকলে আইনানুগ প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রকাশ্য সভায় জামিনের বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজনীয়তা ও আইনগত ভিত্তি কী, সেটিও ব্যাখ্যা করতে হবে।

নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও বিচারিক কার্যক্রমের সুরক্ষায় হাইকোর্টে উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার চাওয়া হতে পারে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশদাতা আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের মর্যাদা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার স্বার্থে জনস্বার্থে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্রাইয়ে যুবদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

জামিন নিয়ে মন্তব্য, কুমিল্লার এসপিকে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেট সময় ০৭:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিচারাধীন মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়া নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের এক প্রকাশ্য মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের বরাত দিয়ে নোটিশে বলা হয়, কুমিল্লায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় এসপি মো. আনিসুজ্জামান মন্তব্য করেন—‘পুলিশ আসামি ধরবে আর ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়ে দেবেন, তা হয় না’।

ওই বক্তব্যের প্রকৃত ভাষা, প্রেক্ষাপট ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এসপিকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৭ ধারার কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারিক এখতিয়ারের বিষয়। পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে—এ কারণে আদালত তাকে জামিন দিতে পারবেন না, এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই।

নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বিচারিক আদালতের জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের মর্যাদা এবং বিচারিক কার্যক্রমের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে কি না।

এসপির কাছে নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় ওই বক্তব্য দিয়েছেন কি না; দিয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট অর্থ ও আইনগত ভিত্তি কী এবং কোন আইন, বিধি বা সরকারি নির্দেশনার বলে একজন এসপি বিচারিক আদালতের জামিন দেওয়ার বিষয়ে এমন মন্তব্য করার এখতিয়ার রাখেন।

সেই সঙ্গে ওই বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো বিচারিক আদালতের স্বাধীনতা, মর্যাদা বা বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত, বাধাগ্রস্ত বা জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বিচারিক আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশের আপত্তি থাকলে আইনানুগ প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রকাশ্য সভায় জামিনের বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজনীয়তা ও আইনগত ভিত্তি কী, সেটিও ব্যাখ্যা করতে হবে।

নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও বিচারিক কার্যক্রমের সুরক্ষায় হাইকোর্টে উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার চাওয়া হতে পারে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশদাতা আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আদালতের মর্যাদা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার স্বার্থে জনস্বার্থে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’