সিলেট সীমান্তের চোরাচালান কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা প্রশাসন। রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, বিজিবির সিও সকলেই যেনো চোরাচালান নিয়ন্ত্রনে বার-বার ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। যদিও মাঝে মধ্যে দু-একটি চোরাচালানের গাড়ি পুলিশ, বিজিবির হাতে আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলো কেবল আইওয়াশ মাত্র। বড় চালানগুলো নির্বিঘে যেতে এই ছোট চালানগুলো আটক করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়া হয়। সংবাদ মাধ্যম বা টিভি চ্যালেনে চোরাচালানের সংবাদ প্রকাশ করতে করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা এক রকম ক্লান্ত। আবার কিছু সাংবাদিক বিক্রি হয়ে গেছেন এসব চোরাকারবারিদের কাছে। তারা দৈনিক-সাপ্তাহিক-মাসিক বখরা নিয়ে থাকেন এসব চোরাকারবারিদের কাছ থেকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রশাসন চোরাচালান নিয়ন্ত্রনের বদলে এসব চোরাকারবারিদের সহযোগী করছে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলের শেষ দিকে সিলেট সীমান্তের চোরাচালান ব্যবসাটি মহামারি আকার ধারণ করে। প্রশাসনের কোন কৌশল আর ব্যবস্থা কোন কাজেই আসছেনা। এদিকে প্রশাসনের উপর মহল সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনকে, অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসনের বড় চেয়ারে বসে থাকা কর্তাব্যক্তিরা সীমান্তের চোরাকারবারিদের সাথে থানায় বসেই টাকার বিনিময়ে চোরাকারবারিদের সব রকম সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। সিলেটের গোয়ানঘাট থানা চোরাকারবারীদের কাছে স্বর্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত। , এই থানার ওসি থেকে শুরু করে স্থানীয় ইউনিয়নের বিট অফিসারগন সরাসরি ভারতীয় চোরাচালানের সাথে জড়িত বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সিলেট সীমান্তের চোরাচালান নিয়ে ধারাবাহিক সিলেটের গোয়ানঘাট থানার প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা ভারত সীমান্ত ঘেষা।এই উপজেলা হচ্চে সিলেটের সবচেয়ে বড় চোরাচালানের প্রবেশ পথ। বর্তমান ওসি থানায় যোগদানের পর চোরাকারবারীরা নির্বেঘে তাদের চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি রাতে থানায় বসেই চোরাকারবারিদের কাছ থেকে হিসাব বুঝে নেন।ওসির টাকায় কোন দারোগার ভাগ নেই। দারোগাদের নিজেদের রয়েছেন আলাদা টাকার অংক। তবে ওসি নিজেই চোরাচালানের লাইনম্যানদের ইউনিয়ন ভিত্তিক এলাকা ভাগ-বন্টন করে দিয়ে থাকেন। চোরাকারবারিদের ভাষায় চোরাচালানের এই ভাগ করা এলাকাকে সীমান্তের ঘাট বলেন। ওসি নিজেই স্থানীয় বিট অফিসারদের চোরাকারবারিদের সাথে মিট করিয়ে টাকার অংক বুঝিয়ে নিতে বলেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১নং মধ্যে জাফলং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা হচ্ছে জিরো পয়েন্ট,লন্ডনি বাজার,রাধানগর বাজার, এই ইউনিয়নের লাইনম্যান আবদ্দুল্লাহ, পিতা-হাজী আব্দুল হামিদ, কামাল পিতা-স্বরকোম আলি,জসিম পিতা-হাবিবুর রহমান, রিয়াজ পিতা-হাবিবুর রহমান, উপজেলার চোরাচালান জগতের সব চেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি আবদ্দুল্লাহ।এরা সকলে পুলিশ ও ডিবি -লাইনম্যান।আব্দুল্লাহ এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ, ও থানা পুলিশের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়। বিশেষ করে ১১নং মধ্যে জাফলং রাধানগর বাজার দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, চিনি, চা পাতা, কসমেটিক শাড়ি, থ্রি পিস, রেহেঙ্গা, মোবাইল ফোন, মদ, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, আগ্নি অস্ত্র, হেরোইন সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য ও ভারতীয় গরু-মহিষ।এসব চোরাচালানের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের রয়েছেন নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে নারাজ। কেউ মুখ খুললে তাদেরকে ভয় ভীতি দেখান এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। চোরাকারবারীদের কাছ থেকে প্রতি কিটের কার্টুন থেকে ৫০০টাকা, প্রতিবস্তা চিনি থেকে ৩ শত টাকা, ভারতীয় প্রতিটি গরু ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করেন লাইনম্যানরা।স্থানীয়দের মতে, প্রতিমাসে চোরাচালানের এই লাইনম্যান রদবদল করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, সার্কেল এএসপি, জেলা উত্তর ডিবির নিয়োগপ্রাপ্ত ওসি ও বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কামান্ডাররা। যার ফলে রেঞ্জ ডিআইজি, বা জেলার এসপি কোন নির্দেশ বা আদেশ কার্যকর হয়না সীমান্ত এলাকায়।
সংবাদ শিরোনাম ::
সীমান্তের মাফিয়া ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রক এরা, পুলিশ-ডিবি- লাইনম্যান
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৮:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- ৬৬৭ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























