সংবাদ শিরোনাম ::
গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না : সংসদে রুমিন ফারহানা বন ধ্বংস করে ইন্ডাস্ট্রি করা ব্যক্তিই পরিবেশমন্ত্রী: আসিফ মাহমুদ রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু ৭৩ কোটি টাকায় ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনছে বিটিভি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নীতিমালা করছে সরকার বিসিবি সভাপতি তামিম, সহ-সভাপতি ফাহিম সিনহা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারআইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নেবেন : মন্ত্রীকে স্পিকার

ঝিনাইদহে স্থবির উন্নয়ন, ভোগান্তিতে ২০ লাখ মানুষ

ঝিনাইদহের সরকারি দপ্তরগুলোতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। অতিরিক্ত বা বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। অর্থ সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জেলার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে।

ছয় উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় থেমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
জানা গেছে, এলজিইডি, গণপূর্ত, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অপ্রতুল বরাদ্দ এলেও মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক কালভার্ট ভেঙে গেছে, গ্রামীণ সড়কেও একই অবস্থা। পৌর এলাকাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও সড়ক সংস্কারে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কর আদায় কমে যাওয়ায় পৌরসেবায়ও স্থবিরতা এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় বাজারে টাকার লেনদেন কমে গেছে। ঠিকাদার, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

নির্মাণসামগ্রীর দোকানেও মন্দাভাব।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় বছর ধরে কোনো নতুন কাজ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার। তাদের ব্যবসাও ধসে পড়ছে।
অর্থ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগেও। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ ও টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় মতানৈক্যের কারণে সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে পারছে না। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে।’ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্বশূন্য। এজন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত সরকার এলেই এ সংকটের সমাধান হবে।’

ঝিনাইদহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল জানান, ‘এ অর্থবছরে সরকারের প্রকল্প তহবিল থেকে তেমন বরাদ্দ আসেনি। রাজস্ব খাত থেকে সামান্য কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় কম।’ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে নতুন কোনো প্রকল্প আসেনি। সড়ক মেরামতের জন্য কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তবে নতুন প্রকল্পের অভাবে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরো জানান, সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরের টার্মিনাল থেকে হামদহ হয়ে আরাপপুর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং কাজও শুরু হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না : সংসদে রুমিন ফারহানা

ঝিনাইদহে স্থবির উন্নয়ন, ভোগান্তিতে ২০ লাখ মানুষ

আপডেট সময় ০৮:২৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ঝিনাইদহের সরকারি দপ্তরগুলোতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। অতিরিক্ত বা বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। অর্থ সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জেলার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে।

ছয় উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় থেমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
জানা গেছে, এলজিইডি, গণপূর্ত, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অপ্রতুল বরাদ্দ এলেও মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক কালভার্ট ভেঙে গেছে, গ্রামীণ সড়কেও একই অবস্থা। পৌর এলাকাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও সড়ক সংস্কারে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কর আদায় কমে যাওয়ায় পৌরসেবায়ও স্থবিরতা এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় বাজারে টাকার লেনদেন কমে গেছে। ঠিকাদার, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

নির্মাণসামগ্রীর দোকানেও মন্দাভাব।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় বছর ধরে কোনো নতুন কাজ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার। তাদের ব্যবসাও ধসে পড়ছে।
অর্থ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগেও। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ ও টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় মতানৈক্যের কারণে সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে পারছে না। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে।’ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্বশূন্য। এজন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত সরকার এলেই এ সংকটের সমাধান হবে।’

ঝিনাইদহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল জানান, ‘এ অর্থবছরে সরকারের প্রকল্প তহবিল থেকে তেমন বরাদ্দ আসেনি। রাজস্ব খাত থেকে সামান্য কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় কম।’ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে নতুন কোনো প্রকল্প আসেনি। সড়ক মেরামতের জন্য কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তবে নতুন প্রকল্পের অভাবে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরো জানান, সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরের টার্মিনাল থেকে হামদহ হয়ে আরাপপুর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং কাজও শুরু হয়েছে।