ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু, ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের পাঁচতলা ভবনে ১৭ ফ্ল্যাট ডেঙ্গু ঠেকাতে নাগরিকদের বাসাবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৯০ কোটি টাকার খালি চেক দেওয়ার অভিযোগে দুদকের নজরে খুলনা ওয়াসার রেজাউল ইসলাম বিমান মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গর্বের বিষয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামলার আশঙ্কায় পিছিয়ে গেল রোনালদোদের ম্যাচ শেখ হাসিনার দুপুরের খাবারের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায় নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান ছাত্রলীগের পদের জন্য প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত সারজিস: রাশেদ খান

ঢাকায় পেঁয়াজ ১১০ টাকা, একদিনেই কেজিতে বাড়লো ২০ টাকা

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ আজ (৪ নভেম্বর) ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ আসতে দেরি হওয়া এবং ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় চাহিদার তুলনায় জোগান কম দেখা যায়। এতে হু হু করে বাড়ছে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম।

রাজধানীর মানিকনগর, মুগদা, গোপীবাগ ও ধলপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায়। মুদি দোকানগুলোতে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি পেঁয়াজ। তবে এসব বাজারে ভ্যান গাড়িতে ১০০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গোপীবাগ বাজারের আকরাম জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আকরাম বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ভারতের পেঁয়াজ আমদানিও বন্ধ রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি বাজারে না পাওয়ায় প্রতিদিন দাম বাড়ছে। তিন-চারদিন আগেও ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। গতকালও ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ সেটি ১১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। এছাড়া, রবি মৌসুমের পেঁয়াজ এখনো বাজারে তেমন না আসায় সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমদানি চালু না হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তদার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে আড়তে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। মূলত দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে।’

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দেশে এখন আর পেঁয়াজের তেমন মজুদ নেই। যার কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। ভারতে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ টাকা কেজিতে। তাই দেশে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত আমদানির বিকল্প নেই।’

এ দিকে, পেঁয়াজ চাষীরা বলছেন, এবছর বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ রোপণ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর ফলে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতেও কিছুটা দেরি হচ্ছে। অন্যান্য বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। এ বছর অনেক জেলায় এখনো পেঁয়াজ জমি থেকে উত্তোলন সম্ভব হয়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল

ঢাকায় পেঁয়াজ ১১০ টাকা, একদিনেই কেজিতে বাড়লো ২০ টাকা

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ আজ (৪ নভেম্বর) ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ আসতে দেরি হওয়া এবং ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় চাহিদার তুলনায় জোগান কম দেখা যায়। এতে হু হু করে বাড়ছে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম।

রাজধানীর মানিকনগর, মুগদা, গোপীবাগ ও ধলপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায়। মুদি দোকানগুলোতে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি পেঁয়াজ। তবে এসব বাজারে ভ্যান গাড়িতে ১০০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গোপীবাগ বাজারের আকরাম জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আকরাম বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ভারতের পেঁয়াজ আমদানিও বন্ধ রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি বাজারে না পাওয়ায় প্রতিদিন দাম বাড়ছে। তিন-চারদিন আগেও ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। গতকালও ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ সেটি ১১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। এছাড়া, রবি মৌসুমের পেঁয়াজ এখনো বাজারে তেমন না আসায় সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমদানি চালু না হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তদার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে আড়তে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। মূলত দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে।’

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দেশে এখন আর পেঁয়াজের তেমন মজুদ নেই। যার কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। ভারতে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ টাকা কেজিতে। তাই দেশে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত আমদানির বিকল্প নেই।’

এ দিকে, পেঁয়াজ চাষীরা বলছেন, এবছর বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ রোপণ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর ফলে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতেও কিছুটা দেরি হচ্ছে। অন্যান্য বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। এ বছর অনেক জেলায় এখনো পেঁয়াজ জমি থেকে উত্তোলন সম্ভব হয়নি।