রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন রোগী আহত হয়েছেন। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে হাসপাতাল থেকে বের হতে গিয়ে তাঁরা আহত হন। এ ঘটনায় হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমের প্রশাসনিক শাখার পাশে একটি সুইচবোর্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এরপরও প্রায় ছয় ঘণ্টা হাসপাতালটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।
আগুন লাগার পর পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে পড়ে। দীর্ঘ চেষ্টায় কয়েকটি ওয়ার্ডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনি ও কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছিল না। এতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়।
জানা গেছে, আগুন লাগার পরপরই হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়ি ও পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
বিকেল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়, হৃদরোগ বিভাগ, প্যাথলজি, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, কিডনি ডায়ালাইসিস ও নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি। ফলে প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় তলার নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী সফিউল আলমকে কোলে করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় তাঁর দুই ভাতিজা পড়ে গিয়ে আহত হন। এ সময় কিডনি রোগী সফিউল আলমও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন।
অন্যদিকে, গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও সদ্যোজাত শিশুদের তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় কয়েকজন শিশু আহত হয়।
গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী সারমিলা আক্তার জানান, পাঁচ দিন আগে তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে শিশুকে নিয়ে দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে তিনি আহত হন।
এ ছাড়া লোহার তৈরি জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়েও হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার চেষ্টা চলছে।
আল মিজান ইসলাম 




















