ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ নেত্রকোণায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০ জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী পটুয়াখালীতে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ৫৩৩ জন অনুপস্থিত বাংলাদেশি জাহাজকে কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না ইরান? অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন : বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’

পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজগর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ময়নুলের ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭২০ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের প্রায় একুশটি ইটভাটা অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজগর আলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ময়নুল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ তিনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব নম্বরে অর্থ জমা না করে তা আত্মসাৎ করেছেন। দণ্ডপাল ইউনিয়নের একাধিক ইটভাটা মালিক ও ব্যবস্থাপক জানান, প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদে ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিতে হয়। তবে এর বিপরীতে রশিদ দেওয়া হয় অনেক কম অঙ্কে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭০ হাজার টাকার কর আদায় করেও ১৫ হাজার বা ৫ হাজার টাকার রশিদ দেওয়া হয়। স্থানীয় এক ইটভাটা মালিক বলেন, “চেয়ারম্যান ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ইটভাটা থেকে কর নেবেন না। কিন্তু এখন আগের তুলনায় টাকার পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছে।” ইউনিয়ন পরিষদের সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব, ওয়ারিশান, হাটবাজার, গাছ কর্তন, প্রত্যয়নপত্র, পশু সনদ, ও পেশাকর বাবদ ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৮২১ টাকা। পরের বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪৩ টাকা, এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত দেখানো হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ২৩ হাজার ৮৬৮ টাকা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুধু ইটভাটা থেকেই প্রতিবছর ২০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা হয়, যার কোনো অঙ্কই ইউনিয়নের হিসাবপত্রে দেখা যায় না। স্থানীয় সরকারের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা শিল্প কারখানার মূলধন ৪০ লাখ টাকার ওপরে হলে, বাৎসরিক কর বাবদ ৫০ হাজার টাকা ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে হয়। এর সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রতি ইটভাটা থেকে সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার টাকা আদায়যোগ্য। মেসার্স এমআরবি ব্রিক্সের প্রোপাইটর মোকবুল হোসেন বলেন, “গত মৌসুমে ইউনিয়ন পরিষদে ৭০ হাজার টাকা কর দিয়েছি, কিন্তু ১৫ হাজার টাকার রশিদ দিয়েছে। ভোটের আগে আজগর চেয়ারম্যান কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন উল্টো বাড়িয়ে দিচ্ছেন।” লোহাগাড়া এলাকার এসবিবি ব্রিক্সের ম্যানেজার খগেশ্বর বর্মণ বলেন, “আমরা গত বছর ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি, কিন্তু রশিদ দিয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ টাকার। এবারও ৭৫ হাজার টাকা দাবি করেছে ইউনিয়ন থেকে।” অটো রাইস মিলের মালিক গোলাম আযম গোলাপ বলেন, “আমরা প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকা দিই, কিন্তু অফিসে গেলে দেখা যায় রশিদে তার অর্ধেক দেখানো।” অভিযুক্ত দণ্ডপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজগর আলী বলেন, “ভাটাগুলো থেকে কয়েক বছর ধরে কোনো কর আদায় হয়নি।” একই দাবি করেন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ময়নুল হক। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং প্রশাসনের কাছ থেকে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ

পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজগর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ময়নুলের ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত

আপডেট সময় ১২:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের প্রায় একুশটি ইটভাটা অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজগর আলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ময়নুল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ তিনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব নম্বরে অর্থ জমা না করে তা আত্মসাৎ করেছেন। দণ্ডপাল ইউনিয়নের একাধিক ইটভাটা মালিক ও ব্যবস্থাপক জানান, প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদে ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিতে হয়। তবে এর বিপরীতে রশিদ দেওয়া হয় অনেক কম অঙ্কে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭০ হাজার টাকার কর আদায় করেও ১৫ হাজার বা ৫ হাজার টাকার রশিদ দেওয়া হয়। স্থানীয় এক ইটভাটা মালিক বলেন, “চেয়ারম্যান ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ইটভাটা থেকে কর নেবেন না। কিন্তু এখন আগের তুলনায় টাকার পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছে।” ইউনিয়ন পরিষদের সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব, ওয়ারিশান, হাটবাজার, গাছ কর্তন, প্রত্যয়নপত্র, পশু সনদ, ও পেশাকর বাবদ ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৮২১ টাকা। পরের বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪৩ টাকা, এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত দেখানো হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ২৩ হাজার ৮৬৮ টাকা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুধু ইটভাটা থেকেই প্রতিবছর ২০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা হয়, যার কোনো অঙ্কই ইউনিয়নের হিসাবপত্রে দেখা যায় না। স্থানীয় সরকারের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা শিল্প কারখানার মূলধন ৪০ লাখ টাকার ওপরে হলে, বাৎসরিক কর বাবদ ৫০ হাজার টাকা ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে হয়। এর সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রতি ইটভাটা থেকে সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার টাকা আদায়যোগ্য। মেসার্স এমআরবি ব্রিক্সের প্রোপাইটর মোকবুল হোসেন বলেন, “গত মৌসুমে ইউনিয়ন পরিষদে ৭০ হাজার টাকা কর দিয়েছি, কিন্তু ১৫ হাজার টাকার রশিদ দিয়েছে। ভোটের আগে আজগর চেয়ারম্যান কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন উল্টো বাড়িয়ে দিচ্ছেন।” লোহাগাড়া এলাকার এসবিবি ব্রিক্সের ম্যানেজার খগেশ্বর বর্মণ বলেন, “আমরা গত বছর ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি, কিন্তু রশিদ দিয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ টাকার। এবারও ৭৫ হাজার টাকা দাবি করেছে ইউনিয়ন থেকে।” অটো রাইস মিলের মালিক গোলাম আযম গোলাপ বলেন, “আমরা প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকা দিই, কিন্তু অফিসে গেলে দেখা যায় রশিদে তার অর্ধেক দেখানো।” অভিযুক্ত দণ্ডপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজগর আলী বলেন, “ভাটাগুলো থেকে কয়েক বছর ধরে কোনো কর আদায় হয়নি।” একই দাবি করেন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ময়নুল হক। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং প্রশাসনের কাছ থেকে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।