মেডিকেল কলেজের (রাঙামেক) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ অনুমোদন পাওয়ার পরও শুরু হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, দেশের ২৯তম সরকারি মেডিকেল কলেজ হিসেবে ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া এই মেডিকেল কলেজ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস হয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একই ছাদের নিচে ক্লাস, পরীক্ষা ও অফিস কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, হোস্টেল, লাইব্রেরি, আধুনিক ল্যাব, অডিটোরিয়াম ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন।
উল্লেখ্য, ১১ সেপ্টেম্বর-২০২৪ তারিখে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের (রাঙামেক) স্থায়ী ক্যাম্পাস দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও গণপূর্ত ভবন ঘেরাও করে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় গণপূর্ত ভবনের প্রধান ফটক ঘেরাও করে অবস্থান নেয় তারা। পরে রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমার অফিস রুমে গিয়ে তাকে জেরা করে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল।
১১ সেপ্টেম্বর-২০২৪ তারিখে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের (রাঙামেক) স্থায়ী ক্যাম্পাস দাবিতে এভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও গণপূর্ত ভবন ঘেরাও করে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা(ফাইল ছবি)
এ বিষয়ে রামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া বলেন, “প্রতিষ্ঠার প্রায় এগারো বছর পর অবশেষে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ একনেকে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। খবরে আমরা উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও অধিগ্রহণকৃত ২৬ একর জমিতে কোনো কাজ শুরু হয়নি—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাডাম (নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মী চাকমা) এখানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ধীর হয়ে গেছে। তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না, প্রায়ই চট্টগ্রামে চিকিৎসার জন্য যান। কিছুদিন আগে ভারতে চিকিৎসা করিয়েছেন, এখন আবার উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
স্থানীয় একজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, “এক্সেন ম্যাডামের জামাই চট্টগ্রামে থাকেন, তাই উনি সেখানেই বেশিরভাগ সময় কাটান। গত পাঁচ মাসে মেডিকেল কলেজের প্রাক্কলন তৈরির কাজও শুরু হয়নি। টেন্ডার কবে হবে বলা মুশকিল। কাগজপত্র পিয়নরা তার বাসায় নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করায়। শুনেছি, প্রধান প্রকৌশলী ম্যাডামকে ঢাকায় ডেকে ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।”
এদিকে অবকাঠামো কাজ শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে মাইগ্রেশন নিয়ে অন্য মেডিকেল কলেজে চলে যাচ্ছেন। রামেকের একাডেমিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কাজ না হওয়াই মাইগ্রেশনের প্রধান কারণ।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী যথাযথভাবে প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে না নিলে ২০২৮ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেক কাজও শেষ হবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















